টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর প্রত্যাশার চেয়ে ভালো প্রথম ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর শুক্রবার, ১০ জুলাই ভারতীয় শেয়ার বাজারে ইতিবাচক সূচনা দেখা গেল। বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই নিফটি ৫০ শক্তিশালী গ্যাপ-আপে লেনদেন শুরু করে। একই সময়ে সেনসেক্স ৮০০ পয়েন্টেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদের সঞ্চার করে।
দিনের শুরু থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), ব্যাঙ্কিং, আর্থিক পরিষেবা এবং ফার্মা খাতে জোরালো কেনাকাটা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে টিসিএসের শক্তিশালী ফলাফলের প্রভাবে গোটা আইটি খাতে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ইতিবাচক আন্তর্জাতিক বাজার, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণও বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগকেও আপাতত উপেক্ষা করে বিনিয়োগকারীরা কেনাকাটায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দিনের বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা এখনও ঊর্ধ্বমুখী। নিফটির জন্য ২৩,৯৫০ থেকে ২৪,০০০ পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে ২৪,২৫০ থেকে ২৪,৩৫০ পয়েন্টের মধ্যে রেজিস্ট্যান্স থাকতে পারে। যদি নিফটি ২৪,১০০ পয়েন্টের উপরে স্থির থাকতে পারে, তাহলে দিনের বাকি সময়েও বাজারে শক্তিশালী গতি বজায় থাকতে পারে। তবে রেজিস্ট্যান্স স্তরের কাছে পৌঁছালে কিছু মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যার ফলে দিনের মধ্যে ওঠানামা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আজ বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে টিসিএস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, ভারতী এয়ারটেল এবং সান ফার্মার মতো শেয়ার। আইটি, ব্যাঙ্কিং, আর্থিক পরিষেবা ও ফার্মা খাত শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অটো ও এফএমসিজি খাতেও নজর রাখতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়লে তেলনির্ভর শিল্পে চাপ দেখা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারও আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারকে সমর্থন করছে। মার্কিন শেয়ার বাজার ইতিবাচকভাবে বন্ধ হয়েছে এবং এশিয়ার বেশিরভাগ বাজারও সবুজ সংকেত দিচ্ছে। ডলার-রুপির বিনিময় হার ৮৫ থেকে ৮৬ টাকার মধ্যে এবং পাউন্ড-রুপির হার ১১৬ থেকে ১১৭ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে।
পণ্য বাজারে সোনার দাম সামান্য বেড়েছে। যদিও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি, তবুও বাজার তার বড় অংশ ইতিমধ্যেই হিসাবের মধ্যে নিয়ে ফেলেছে। অন্যদিকে ক্রিপ্টো বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা রয়েছে। বিটকয়েন শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং ইথেরিয়ামও ঊর্ধ্বমুখী লেনদেন করছে।
দিনভর বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে টিসিএসের ফলাফলের পর আইটি খাতের গতিবিধি, বিদেশি ও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কেনাবেচা, অপরিশোধিত তেলের দামের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়া শেয়ারের পিছু না ছুটে, স্বাস্থ্যকর সংশোধনের সময় বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজাই হবে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।