সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় শেয়ার বাজার। টানা ওঠানামার পর শুক্রবার শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করল সেনসেক্স ও নিফটি। মূলত টিসিএসের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো প্রথম ত্রৈমাসিকের ফলাফল, ইতিবাচক বৈশ্বিক বাজারের ইঙ্গিত এবং বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কেনাকাটার জেরে বাজারে ফের আশাবাদী মনোভাব তৈরি হয়। যদিও আজকের এই বড় উত্থান সত্ত্বেও সপ্তাহের শুরুতে হওয়া তীব্র পতনের কারণে সামগ্রিকভাবে সপ্তাহ শেষে দুই প্রধান সূচকই সামান্য ক্ষতিতে রয়ে গেল।
দিনের শেষে বিএসই সেনসেক্স ৮২৮ পয়েন্ট বা ১.০৮ শতাংশ বেড়ে ৭৭,৫৬৯.৩৯ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ২৪৪ পয়েন্ট বা ১.০২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৪,২০৬.৯০ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে। বাজারের এই উত্থানে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাজার বিশেষজ্ঞদের অনুমান।
সকালের শুরু থেকেই বাজারে ছিল ইতিবাচক পরিবেশ। টিসিএসের শক্তিশালী আর্থিক ফল প্রকাশের পর তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে ব্যাপক কেনাকাটা দেখা যায়। পাশাপাশি ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা খাতেও ভালো চাহিদা ছিল। দিনের মাঝামাঝি সময়ে ধাতু, কনজিউমার ডিউরেবল এবং মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ারেও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে। শেষ পর্যন্ত বাজার দিনের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি অবস্থানেই বন্ধ হয়, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থারই ইঙ্গিত দেয়।
আজকের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। টিসিএস, উইপ্রো এবং এইচসিএল টেকের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। এছাড়া টাইটান এবং হিন্দালকোর শেয়ারও ভালো লাভ করে। অন্যদিকে ডক্টর রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজের শেয়ার সেমাগ্লুটাইড ব্যবসা সংক্রান্ত সরবরাহ সমস্যার কারণে চাপে পড়ে। ট্রেন্টের শেয়ারও প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল রাজস্ব পূর্বাভাসের জেরে পতনের মুখে পড়ে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। ইউরোপের বেশিরভাগ বাজারও সবুজে লেনদেন শেষ করেছে। এশিয়ার বাজারে মিশ্র প্রবণতা থাকলেও ভারতের বাজার এদিন তুলনামূলকভাবে ভালো পারফর্ম করেছে। ডলার, পাউন্ড ও ইউরোর বিপরীতে ভারতীয় রুপির অবস্থান স্থিতিশীল ছিল, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহে প্রথম ত্রৈমাসিকের আরও কর্পোরেট ফলাফল, বিদেশি ও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রবাহ, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে। নিফটি ২৪,০০০ পয়েন্টের উপরে থাকলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে ইতিবাচক গতি বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।