নবদ্বীপ, নিউজ ডেস্ক: দুধকে বলা হয় সম্পূর্ণ খাদ্য। শিশু থেকে বৃদ্ধ, প্রতিদিনের খাবারে দুধের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সেই দুধের মধ্যেই যদি মিশে থাকে ভেজাল, রাসায়নিক কিংবা অন্য কোনও উপাদান? নদীয়ার নবদ্বীপে একটি দুধের কারখানাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে, একটি কারখানায় অভিযান চালায় পুলিশ। ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বুধবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে জেলা খাদ্য দফতর।
ঘটনাটি নবদ্বীপ থানার মহিশুড়া ঘোষপাড়া কালভার্ট সংলগ্ন এলাকার। পুলিশ সূত্রে খবর, কারখানার মালিকের এক ভাগ্নেকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কারখানা থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এই কারবারে আরও কেউ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় দুধে ভেজাল মেশানোর কাজ চলছিল। স্থানীয় বিজেপি নেতা শশধর নন্দীর অভিযোগ, দুধের সঙ্গে ছানার জল, ওষুধ এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে দুধের পরিমাণ বাড়ানো হত। এরপর প্যাকেট এবং কন্টেনারে করে সেই দুধ সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হত এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে। শুধু তাই নয়, একাধিক ছোট দুধ সরবরাহকারী সংস্থার কাছেও ওই দুধ পাঠানো হত বলে অভিযোগ। তবে, অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারিভাবে নিশ্চিত হয়নি। নমুনা পরীক্ষার পরে নিশ্চিত হওয়া যাবে দুধে ঠিক কি ধরনের উপাদান মেশানো হয়েছিল।
অভিযানের সময় কারখানার ভিতর থেকে দুগ্ধ সমবায় সমিতির একটি বোর্ড পাওয়ায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, কারখানায় দুধে ভেজাল মেশানোর বিষয়টি সমবায় কর্তৃপক্ষের জানা ছিল কি না। যদিও এই বিষয়ে সমবায় সমিতির তরফ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বুধবার সকালে জেলা খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুধ ও অন্যান্য সামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেন। কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক মৌলি সান্যাল জানিয়েছেন, নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে, পরীক্ষায় অনিয়ম ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই কারখানা থেকে কতদিন ধরে দুধ বাজারে যাচ্ছিল? ভেজাল কারবারের পিছনে কি আরও বড় কোনও চক্র রয়েছে? নমুনার রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তে এবার সামনে আসবে আসল সত্য।