বৈভব সূর্যবংশীর বয়স সত্যিই ১৫? তাঁর ব্যাটিং দেখলে প্রশ্নটা যেন ফিরে আসে বার বার। যে আত্মবিশ্বাস, পরিণত মানসিকতা এবং আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ক্রিকেটবিশ্বকে চমকে দিয়েছেন এই ভারতীয় তরুণ, তা দেখে অনেকেরই মনে হয় তিনি যেন ২৮-৩০ বছরের কোনও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। গত এক বছরে বৈভবের বয়স নিয়ে জল্পনা অনেকটাই স্তিমিত হয়েছে। তবে ভারতের বাইরে এখনও সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বলে জানালেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন পেসার ব্রেট লি।
তবে বয়স নিয়ে আলোচনায় একেবারেই আগ্রহী নন লি। তাঁর সাফ কথা, বৈভবের বয়স ১৫, ১৬, ১৭ কিংবা ১৮, যাই হোক না কেন, তাতে কিছুই যায় আসে না। আসল বিষয় হল, এত অল্প বয়সেই সর্বোচ্চ স্তরের ক্রিকেট খেলার ক্ষমতা বৈভবের রয়েছে। একটি ইউটিউব চ্যানেলে লি বলেন, ‘‘ভারতের বাইরে সকলেই প্রশ্ন করে, ওর বয়স সত্যিই ১৫ কি না। কিন্তু আমার তাতে কিছু যায় আসে না। ১৫ হলে দারুণ, ১৭ বা ১৮ হলেও বা কী! এই ছেলে ক্রিকেট খেলতে পারে। ভারতের জন্য ও দুর্দান্ত একটি আবিষ্কার।’’
বৈভবের আইপিএল পারফরম্যান্সেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন লি। বিশেষ করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ৯৭ রানের ইনিংসটি তাঁকে মুগ্ধ করেছে। লি-র কথায়, অস্ট্রেলীয় বোলারদের ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের কাছাকাছি গতির বলও বৈভব যেভাবে পুল ও হুক করেছেন, তা অবিশ্বাস্য। ‘‘ও ঠিকঠাক ক্রিকেটীয় শট খেলে। কোথা থেকে যেন এক অসাধারণ শক্তি পায়,’’ মন্তব্য লি-র। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, বৈভবের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ব্যাটিংয়ে নয়, মানসিকতায়। প্রাক্তন অজি পেসারের মতে, বৈভব এখনও কিশোর। তাই তার উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে তাকে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।
আর বৈভবকে বল করতে হলে কী করতেন? সেই উত্তরও দিয়েছেন লি। বলেন, যে ব্যাটার হুক-পুল ভাল খেলেন, তাঁর বিরুদ্ধে বল করাটাই বরং উপভোগ্য চ্যালেঞ্জ। তাই বৈভবের ক্ষেত্রে ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিকল্পনা তৈরি করে সরাসরি তাঁর হেলমেটের ব্যাজ লক্ষ্য করে শর্ট বল করতেন তিনি। ‘‘ও হয়তো আমাকে ছক্কা মেরে দেবে। কিন্তু তাতেও আমি ওর মাথা বরাবর দ্বিতীয় বার সেই বল করতে ভয় পেতাম না,’’ বলেছেন লি। অর্থাৎ বয়স নিয়ে যতই প্রশ্ন উঠুক, বৈভবের ব্যাটিং প্রতিভা যে ক্রিকেটবিশ্বের নজর কেড়েছে, তা নিয়ে অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তির সংশয় নেই।