উজ্জয়িনী, নিউজ ডেস্ক: তারকা নন, নেতা নন, কোনও মন্ত্রীও নন। তবু আগমনটা একেবারে ‘ভিআইপি’। সামনে-পিছনে লোকজন, সঙ্গে দেহরক্ষী, চারপাশে কৌতূহলী জনতা। দেখে মনে হবে, কোনও হেভিওয়েট অতিথি বুঝি দোকান উদ্বোধনে এলেন। কিন্তু গাড়ি থেকে নামলেন যে, তিনি মানুষ নন, একেবারে হিউম্যানয়েড রোবট!
উজ্জয়িনীর একটি স্যান্ডউইচের দোকান উদ্বোধনে এই ‘ভিআইপি’ অতিথির আগমন এখন সমাজমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। আর শুধু ফিতে কেটে বা ফিতে কাটার পাশে দাঁড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি সে। কপালে টিকা নিয়েছে, অতিথিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে অভিবাদন জানিয়েছে। তার পর? আচমকাই শুরু করে দিয়েছে নাচ! অতিথিরা তখন বোধ হয় ভাবছেন, এ আবার কী! দোকান উদ্বোধন না রোবটের ‘ডান্স শো’?
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, রোবটটি বেশ রাজকীয় কায়দায় অনুষ্ঠানে ঢুকছে। পাশে থাকা লোকজন তাকে সামলাচ্ছেন, আর চারদিকে মোবাইল ফোন হাতে দাঁড়িয়ে উৎসুক জনতা। যেন কোনও সিনেমার শুটিং চলছে। তাকে ভারতীয় রীতিতে স্বাগত জানানো হয়। কপালে দেওয়া হয় টিকা। গলায় পরানো হয় কাপড়। সব দেখে মনে হবে, রোবট বাবাজির আজ বুঝি শুভ উদ্বোধন!
তার পর সামনে আসে আসল আপ্যায়ন। হাতে তুলে দেওয়া হয় স্যান্ডউইচ। রোবটও দিব্যি অতিথির মতো সেটি হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানের অংশ হয়ে যায়। তবে খাবারটি সত্যিই খেয়েছে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য রোবট মহাশয় কোনও মন্তব্য করেনি!
কিন্তু অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক আসে তার পরেই। আচমকা গানের তালে হাত-পা নাড়াতে শুরু করে হিউম্যানয়েডটি। একেবারে নাচের মুডে! কখনও হাত উপরে, কখনও শরীর দুলছে—দেখে মনে হবে, দোকান উদ্বোধনে নয়, কোনও বিয়েবাড়ির নাচের আসরে হাজির হয়েছে সে। রোবটের এই নাচ দেখে উপস্থিত লোকজনের হাসি আর থামতেই চায় না। আর যাঁরা ভিডিয়ো করেছেন, তাঁরা তো সুযোগ হাতছাড়া করেননি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
নেটপাড়াতেও কম রসিকতা হয়নি। কেউ লিখেছেন, “রোবটেরও এখন ভিআইপি স্ট্যাটাস!” কারও প্রশ্ন, “দেহরক্ষীও আছে, নাচও জানে—আর কী বাকি?” আবার কেউ মজা করে বলেছেন, “মানুষের চাকরি তো গেলই, এ বার মনে হচ্ছে বিয়েবাড়ির নাচের দলও রোবটের হাতে যাবে!”
তবে মজার আড়ালে রয়েছে প্রযুক্তির বাস্তব অগ্রগতির গল্পও। হিউম্যানয়েড রোবট এখন আর কেবল বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বিষয় নয়। মানুষের মতো হাঁটা, হাত নাড়ানো, মুখভঙ্গি করা, নির্দিষ্ট নির্দেশ মেনে কাজ করা—ধীরে ধীরে নানা ধরনের দক্ষতা অর্জন করছে এই যন্ত্রমানবেরা।
কিন্তু উজ্জয়িনীর রোবটটি যেন প্রযুক্তির সেই গম্ভীর আলোচনাকে এক লহমায় হালকা করে দিল। বিজ্ঞানীরা যেখানে রোবটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা করছেন, সেখানে এই রোবটের বার্তা যেন—“গবেষণা পরে হবে, আগে একটু নাচ হয়ে যাক!”
দোকান উদ্বোধনের কয়েক মিনিটের এই অনুষ্ঠান তাই এখন শুধুই একটি নতুন দোকানের প্রচার নয়। প্রযুক্তি, বিনোদন আর ভারতীয় আতিথেয়তার এমন অদ্ভুত মিশেল সচরাচর দেখা যায় না।
শেষে প্রশ্ন একটাই, দেহরক্ষী যখন আছে, টিকা যখন হয়েছে, স্যান্ডউইচ যখন হাতে এসেছে, নাচও যখন হয়ে গেল—পরের বার কি রোবট বাবাজির নিজের নামে দোকান খুলবে উজ্জয়িনীতে?