নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা DA নিয়ে ফের নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যের অর্থ দফতরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে বকেয়া DA মেটানোর পদ্ধতি এবং সেই টাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক শর্তের কথা জানানো হয়েছে। ফলে পুজোর আগে বকেয়া DA নিয়ে কর্মীদের মধ্যে যেমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনই বিজ্ঞপ্তির কয়েকটি শর্ত ঘিরে প্রশ্নও উঠছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বকেয়া DA-র টাকা কর্মীদের শ্রেণি অনুযায়ী আলাদা পদ্ধতিতে দেওয়া হবে। গ্রুপ A, B এবং C কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া অর্থ সরাসরি হাতে দেওয়া হবে না। তাঁদের প্রাপ্য টাকা General Provident Fund বা GPF-এ জমা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ আপাতত ওই অর্থ ভবিষ্যতের সঞ্চয় হিসেবেই থাকবে।
অন্যদিকে, গ্রুপ D কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা আলাদা। তাঁদের বকেয়া DA-র টাকা সরাসরি Salary Account-এ জমা দেওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এই শ্রেণির কর্মীরা টাকা তুলতে পারবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বকেয়া DA মেটানোর প্রক্রিয়াটি একাধিক কিস্তিতে করার কথা জানানো হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মেটানোর কথা বলা হয়েছিল। এবার ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া অর্থ GPF-এ জমা করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে কর্মরত সরকারি কর্মীদের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত। GPF-এ জমা হওয়া এই বকেয়া টাকা ২০২৮ সালের এপ্রিলের আগে তোলা যাবে না। অর্থাৎ অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হলেও নির্দিষ্ট সময়ের আগে কর্মীরা সেই অর্থ হাতে পাবেন না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আয়কর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে GPF থেকে এই টাকা তোলার সময় প্রযোজ্য আয়কর কেটে নেওয়া হবে। টাকা তোলার আগে Drawing and Disbursing Officer বা DDO-কে সেই করের হিসাব করতে হবে। তবে ঠিক কোন পদ্ধতিতে এই হিসাব করা হবে, তা নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই বলে কর্মী মহলের একাংশের বক্তব্য।
এছাড়াও কোনও কর্মীকে ভুল করে তাঁর প্রাপ্যের তুলনায় বেশি অর্থ দেওয়া হয়ে থাকলে, অতিরিক্ত অর্থও পরবর্তী সময়ে হিসাব করে বাদ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই ‘ওভারড্রল’ বা অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়েই কর্মী সংগঠনগুলির একাংশ আপত্তি তুলেছে।
কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আয়কর কাটার বিষয়টি নিয়ে তাঁদের আলাদা আপত্তি নেই। তবে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের যুক্তিতে টাকা কেটে নেওয়ার নিয়ম নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এর ফলে কর্মীদের হাতে শেষ পর্যন্ত প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
মলয় মুখোপাধ্যায়ের আরও দাবি, সর্বভারতীয় মূল্যসূচক বা AICPI-এর ভিত্তিতে বকেয়া DA-র হিসাব করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সেই কারণে কর্মীরা তাঁদের প্রাপ্যের তুলনায় কম অর্থ পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মালহোত্রা কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অর্থাৎ বকেয়া DA মেটানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি এলেও কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন এখনও রয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে GPF-এ জমা টাকা কবে ব্যবহার করা যাবে, আয়করের হিসাব কীভাবে হবে এবং বকেয়া DA-র প্রকৃত পরিমাণ কী এই বিষয়গুলিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
