কলকাতা: রাজ্যের কোনও স্কুলেই যাতে মিড-ডে মিল বা প্রধানমন্ত্রী পোষণ প্রকল্পের রান্না বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া বার্তা দিল স্কুল শিক্ষা দফতর। সম্প্রতি কলকাতার গড়িয়া ও দমদমের কয়েকটি স্কুলে অর্থের অভাবে মিড-ডে মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এবার স্কুলগুলিতে বরাদ্দ, রান্নার খরচ এবং রাঁধুনিদের বকেয়া ভাতা সবকিছু নিয়েই বিস্তারিত বার্তা দিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মিড-ডে মিল চালানোর জন্য ইতিমধ্যেই বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। রাঁধুনিদের প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য নভেম্বর পর্যন্ত ৪২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রান্নার খরচ বাবদ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৭৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে ৯৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
দীপক বর্মণের স্পষ্ট বার্তা, অর্থের অভাবে রাজ্যের কোনও স্কুলে যেন পড়ুয়াদের খাবার বন্ধ না হয়। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় অর্থ ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করা হয়েছে এবং অক্টোবর পর্যন্ত মিড-ডে মিল চালাতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
এদিকে রাঁধুনিদের বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পুজোর আগেই বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিকের অপেক্ষায় থাকা রান্নার কর্মীদের সমস্যাও দ্রুত মিটবে বলে আশা করছে স্কুল শিক্ষা দফতর।
মিড-ডে মিল নিয়ে সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে গড়িয়ার বোড়াল স্বামীজি বিদ্যাপীঠ। অভিযোগ ছিল, সেখানে টানা তিন দিন মিড-ডে মিল রান্না হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, কয়েক মাস ধরে প্রয়োজনীয় ফান্ড না আসায় ধার করে রান্নার ব্যবস্থা চালানো হচ্ছিল। কিন্তু সেই ধার বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত রান্না বন্ধ করতে বাধ্য হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং কয়েক দিনের মধ্যে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর ফের স্কুলে মিড-ডে মিল চালু হয়।
শুধু গড়িয়া নয়, দমদমের একটি স্কুলেও একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ সামনে এসেছিল। ফলে রাজ্যের অন্যান্য স্কুলেও যাতে অর্থের অভাবে একই পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে বরাদ্দ ও অর্থপ্রবাহের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী পোষণ প্রকল্পকে রাজ্য সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। পড়ুয়াদের পুষ্টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই পরিষেবা কোনওভাবেই যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
এখন নজর থাকবে সেই বরাদ্দ বাস্তবে কত দ্রুত স্কুলগুলির হাতে পৌঁছয় এবং রাঁধুনিদের বকেয়া পারিশ্রমিক পুজোর আগে কতটা মেটানো যায়, তার দিকে। তবে সরকারের বার্তা স্পষ্ট, ফান্ডের সমস্যায় কোনও স্কুলে পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল বন্ধ রাখা যাবে না।
