কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর বার্তা দিয়ে পুলিশে বিপুল নিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনায় তিনি জানান, রাজ্য পুলিশে অনুমোদিত ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩৪৪টি পদের মধ্যে ৪৩ হাজার ৭৩টি পদই বর্তমানে শূন্য। এই শূন্যপদ পূরণে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। পুজোর আগেই ১৬ হাজার নতুন কনস্টেবলকে মাঠে নামানোর পাশাপাশি সব মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার পুলিশকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুলিশের পরিকাঠামো এবং কর্মীসংখ্যা নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মডার্ন পুলিশ সিস্টেম কলকাতা পুলিশের কিছুটা আছে, বাকি রাজ্যের ভয়াবহ চিত্র।’’ তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ না হওয়ায় থানাগুলিতে প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা কমেছে। শুধু নিয়োগ নয়, প্রশিক্ষণ এবং পুলিশকর্মীদের কাজের পরিকাঠামোও উন্নত করা হবে বলে জানান তিনি।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গোটা দেশে জনসংখ্যার নিরিখে পুলিশের গড় হার যেখানে ১৫৫, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে সেই হার মাত্র ১০৬। ফলে জনসংখ্যার চাপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। তাঁর অভিযোগ, স্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে আগের সরকার প্রশিক্ষণহীন সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।
নিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্য শুধু কনস্টেবল পদেই নজর নয়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, পুজোর আগেই ১৬ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পাশাপাশি আরও প্রায় ২০ হাজার নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শূন্যপদ পূরণের মাধ্যমে পুলিশবাহিনীকে বড় আকারে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তায় কোনও পুলিশ বা সরকারি আধিকারিক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি অভিযোগের ক্ষেত্রে ছবি বা প্রমাণ পাঠানোর ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আলাদা কন্ট্রোলরুম ও হেল্পলাইন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, কোনও মহিলা বা কন্যার উপর অপরাধ হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় বসে থাকা চলবে না; আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পুলিশের পাশে সরকার থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
শুধু কর্মীসংখ্যা নয়, থানার পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ ব্যারাক, রান্নাঘর, যানবাহন থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ—একাধিক ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে তাঁর দাবি। রাজ্যের বহু পুলিশ গাড়ি ১৫ বছরের পুরনো বলেও বিধানসভায় উল্লেখ করেছেন তিনি। ফলে নতুন নিয়োগের পাশাপাশি পুলিশ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণেও জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, ৪৩ হাজারেরও বেশি শূন্যপদ সামনে রেখে পুলিশের নিয়োগ ও পরিকাঠামো সংস্কারকে বড় প্রশাসনিক কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরেছে সরকার। পুজোর আগে ১৬ হাজার কনস্টেবলকে কাজে নামানোর লক্ষ্য সফল হলে রাজ্যের থানাগুলিতে কর্মীঘাটতি কতটা কমে, এখন সেদিকেই নজর।