মহিলা টেনিসে খেলোয়াড়দের লিঙ্গ যাচাই করতে SRY জিন পরীক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিল উইমেনস টেনিস অ্যাসোসিয়েশন (WTA)। নতুন নিয়ম ঘিরে ইতিমধ্যেই টেনিস মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। WTA-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, মহিলা খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতায় নামার আগে এক বার এই জেনেটিক স্ক্রিনিং করাতে হবে। গালের ভিতরের কোষের নমুনা বা রক্তের নমুনা, দুই ভাবেই পরীক্ষা করা যেতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
WTA-র যুক্তি, SRY জিনের পরীক্ষা খেলোয়াড়ের জৈবিক লিঙ্গ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেবে এবং মহিলাদের প্রতিযোগিতায় সমতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। তবে এই সিদ্ধান্তকে একেবারেই স্বাগত জানায়নি স্পোর্টস এন্ড রাইটস অ্যালায়েন্স। সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আন্দ্রেয়া ফ্লোরেন্সের দাবি, এই ধরনের পরীক্ষা মহিলা ও কিশোরীদের মধ্যে কলঙ্ক, মানসিক আঘাত এবং বৈষম্যের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, ক্ষতি করার উদ্দেশ্য না থাকলেও এমন নীতি খেলোয়াড়দের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে WTA-এর সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্বের এক নম্বর টেনিস খেলোয়াড় আরিনা সাবালেঙ্কা। কানাডিয়ান ওপেনে তিনি বলেন, মহিলা টেনিসে প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য, জৈবিক ভাবে পুরুষদের শারীরিক শক্তি বেশি হওয়ায় মহিলা খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই সকলকে পরীক্ষা করানো হলে তাতে আপত্তির কিছু নেই বলেই জানিয়েছেন সাবালেঙ্কা।
অন্য দিকে, কোকো গফের মত কিছুটা ভিন্ন। তাঁর আশঙ্কা, লিঙ্গ যাচাইয়ের এই ধরনের পরীক্ষা রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আরও বিরূপতা তৈরি করতে পারে। ফলে WTA-এর নতুন নীতি এক দিকে প্রতিযোগিতায় ন্যায্যতা নিশ্চিত করার যুক্তি সামনে আনলেও, অন্য দিকে বৈষম্য, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং রূপান্তরকামীদের অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের দরজা খুলে দিয়েছে। টেনিস দুনিয়ায় এখন নজর, এই বিতর্কের মধ্যেই WTA তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে কি না।