আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে হামলা ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নন্দীগ্রামে ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানান, সাংবাদিকদের হেনস্থাকারীরা কোনো আন্দোলনকারী নয়, তারা স্রেফ গুন্ডা। এদের বিরুদ্ধে ‘গুন্ডাদমন আইনে’ই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতার ধর্মতলায় হওয়া একটি আন্দোলনে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। সেখানে সংবাদ-সংগ্রহে যাওয়া একাধিক সাংবাদিকের ওপর অমানুষিক হামলা চালানো হয়। মহিলা সাংবাদিকদের শারীরিক হেনস্থা এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করা হয়। যার ফলে সাংবাদিকদের হাসপাতালে ভর্তিও হতে হয়। সে রাতেই হাসপাতালে সাংবাদিকদের দেখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে,সাংবাদিকদের ওপর এমন আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না।
রবিবার নন্দীগ্রামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই হিংসাত্মক ঘটনার পেছনে কোনো ছাত্র আন্দোলনকারী নেই। এরা আসলে জামাতি, মৌলবাদী ও বিদেশি শক্তি দ্বারা প্ররোচিত কিছু দুষ্কৃতী, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।এখানেই উঠে আসছে দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি রাজ্যে বিজেপির নতুন সরকার আসার পর বেআইনি খারিজি মাদ্রাসার তদন্ত, অবৈধ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল এবং পশু হত্যা ও শব্দদূষণ রোধে কঠোর আইন কার্যকর করা হয়েছে। সেই রাগ থেকেই আন্দোলনের আড়ালে কিছু অসামাজিক উপাদান এমন তাণ্ডব চালিয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতেও আঘাত করা হয়েছে, যা কোনো আন্দোলন হতে পারে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে পঞ্চায়েত ভোট, সন্দেশখালি বা অভয়া আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের আক্রান্ত হতে হলেও তৎকালীন সরকার বা পুলিশ প্রশাসন কোনো কড়া ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় সাতটি মামলা দায়ের করেছে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এদের মধ্যে কয়েকজন প্রাক্তন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলেও জানা গেছে। আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়া হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন।