কলকাতা: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’-র ধর্ষণ ও খুনের মামলায় তদন্তে ফের নতুন মোড়। এত দিন মূল অপরাধের তদন্ত ঘিরেই প্রশ্ন উঠেছিল। এ বার সেই প্রশ্ন পৌঁছে গেল ফরেন্সিক পরীক্ষার দরজায়। মৃতার ভিসেরা নমুনা এবং পরীক্ষার রিপোর্টে কারসাজির অভিযোগের তদন্তে সিবিআইকে নামার নির্দেশ দিল শিয়ালদহ আদালত। আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মামলার শুরু থেকেই অভয়ার পরিবারের অভিযোগ ছিল, তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দিক ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি সেই অভিযোগে নতুন মাত্রা যোগ করে বেলগাছিয়া ফরেন্সিক ল্যাবরেটরির এক প্রাক্তন কর্মীর লেখা একটি চিঠি। সেখানে দাবি করা হয়, অভয়ার দেহ থেকে সংগ্রহ করা ভিসেরা নমুনা বদলে দেওয়া হয়েছিল এবং আসল নমুনা নষ্ট করে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। সেই অভিযোগ আদালতের নজরে আনেন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবীরা। আদালত প্রাথমিকভাবে অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই সিবিআইকে পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
ভিসেরা রিপোর্ট কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। শরীরে বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না, কোনও ওষুধ বা মাদক প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, মৃত্যুর আগে ভুক্তভোগীকে অচেতন করার চেষ্টা হয়েছিল কি না—এই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয় এই পরীক্ষার মাধ্যমে। ফলে সেই নমুনা বা রিপোর্টে কারসাজির অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে গোটা তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতাই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
পরিবারের আইনজীবীর বক্তব্য, আদালতের এই নির্দেশ তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবিকেই স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন তাঁরা সিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায়। অন্যদিকে আদালত জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হলে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। মূল মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেও, অভয়ার পরিবারের দাবি ছিল—ঘটনার নেপথ্যে আরও বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। ভিসেরা রিপোর্ট সংক্রান্ত নতুন অভিযোগ সেই বিতর্ককেই আরও উসকে দিল।
এখন নজর ৩০ জুলাইয়ের দিকে। সিবিআইয়ের প্রাথমিক রিপোর্টে কী উঠে আসে, ভিসেরা নমুনা বা রিপোর্টে সত্যিই কোনও কারসাজির প্রমাণ মেলে কি না, তার উপর নির্ভর করছে এই বহুচর্চিত মামলার তদন্তের পরবর্তী অধ্যায়।