রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘অরণ্য সপ্তাহ’ পালন। এই উপলক্ষে নবান্নে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। ‘এক পেড় মা কে নাম’ প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সল্টলেকের বনবিতান থেকে অরণ্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত অরণ্য সপ্তাহ পালিত হবে। এই সময়ে রাজ্যজুড়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ চারাগাছ বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রথের মেলাগুলি থেকেও সাধারণ মানুষের হাতে চারাগাছ তুলে দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরে ৭ কোটি ২০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাজ্য। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৭টি সচেতনতামূলক ট্যাবলো ঘুরবে। পাশাপাশি সুন্দরবন এলাকায় একটি বিশেষ নৌকার মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে।
এদিকে দু'দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। সূত্রের খবর, এই সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, আবাসন, কর্মসংস্থান এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন তিনি।
নবান্নে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, মুখ্যসচিব এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বৈঠকে PM-KISAN, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY), PM ধন-ধান্য কৃষি যোজনা, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP), গ্রামীণ সড়ক, আবাসন ও পঞ্চায়েত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি ১২৫ দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রের অর্থ বরাদ্দ এবং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরসূচির অংশ হিসেবে ব্যারাকপুরের ICAR-CRIJAF-এ পাটচাষি, কৃষি বিজ্ঞানী এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পাটচাষের সমস্যা, জলসংকট, উৎপাদন ব্যয়, বাজারদর এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কৃষকদের মতামত শুনবেন তিনি। পাশাপাশি পাটচাষের উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাব্য উপায় নিয়েও আলোচনা হবে।
অন্যদিকে, রাজ্যে নতুন শিল্প বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যেও নবান্নে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে গঠিত ছয় সদস্যের মন্ত্রিগোষ্ঠীকে শিল্পে লগ্নি বাড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে। পাশাপাশি রাজ্যের ল্যান্ড ব্যাঙ্ক, শিল্পনীতি, কর-ছাড়, সম্ভাব্য ইনসেনটিভ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির রূপরেখা তৈরির কাজও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। বাজেটে ঘোষিত শিল্প-সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।