দল বদলের সাথে বদলেছে পতাকা। কিন্তু বদলায়নি আনুগত্য। ঋত তৃণমূলে যোগদান করার পরই কোচবিহারের নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ স্পষ্ট করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী। নতুন শিবিরে দায়িত্ব গ্রহণ করার ঠিক আগের মুহূর্তে এই বাক্য যেন গুরু কে স্মরণ করে নতুন পথ চলা। আর তাতেই উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।
ঋতব্রত শিবিরে যোগদান করে তৃণমূলের সাম্প্রতিক সংগঠন পরিচালনা নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের দাবি, বিগত কয়েক বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ছিল না। বরং সংগঠনের রাশ চলে গিয়েছিল এমন এক গোষ্ঠীর হাতে, যাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের জেরেই জেলার পর জেলা সংগঠন দুর্বল হয়েছে এবং বহু নেতা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। সবকিছু লুটেপুটে খেয়েছেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ব্যক্তিস্বার্থ দলীয় আদর্শকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। আর তারই মূল্য দিতে হয়েছে সংগঠনকে।
রবীন্দ্রনাথের এই মন্তব্যে কারুর নাম না উঠে আসলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত যে স্পষ্ট তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনীতির অন্দরে। তবে সমালোচনার মাঝেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর আবেগ ছিল অকপট। তিনি বলেন, 'যতদিন সূর্য, চন্দ্র, পৃথিবী থাকবে, ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমার নেত্রী থাকবেন।' এরপরই তাঁর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরে গেলেই আমরা আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফিরে যাব।’
এককালে কোচবিহারের তৃণমূলের অন্যতম দাপুটে নেতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। দীর্ঘদিন জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন, ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রীও। কিন্তু ২০২১ সালের পর ধীরে, ধীরে কমতে থাকে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব। তৈরি হয় মনের দূরত্ব। অবশেষে পালাবদলের পর ঋতব্রত শিবিরেই যোগদান সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পরেই তার এই বার্তা নতুন করে একাধিক প্রশ্ন তৈরি করছে!