কলকাতা: রেলগাড়ি ছুটছে আপন গতিতে। জানলার বাইরে একের পর এক স্টেশন পিছিয়ে পড়ছে। আর ট্রেনের ফার্স্ট এসির একটি কুপের ভিতরে যেন অন্য এক জগৎ! বিছানাজুড়ে ছড়িয়ে গোলাপের পাপড়ি, চারপাশে রঙিন বেলুন, ফুলের মালা আর দেওয়ালে বড় অক্ষরে লেখা—‘আই লাভ ইউ’। দেখে মনে হবে, কোনও বিলাসবহুল হোটেলের ‘হানিমুন স্যুট’। অথচ সেটি আসলে চলন্ত ট্রেনের একটি সংরক্ষিত কামরা।
এই দৃশ্যের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো হইচই। কেউ বলছেন, নবদম্পতির জন্য দারুণ চমক। আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যাত্রীবাহী ট্রেনে এমন সাজসজ্জার অনুমতি এল কোথা থেকে? নিরাপত্তার নিয়মই বা মানা হল কতটা?
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬ জুলাই নন্দেদগ্রাম এক্সপ্রেসের ফার্স্ট এসি কুপেতে সফরে বেরিয়েছিলেন এক নবদম্পতি। তাঁদের যাত্রাকে স্মরণীয় করে তুলতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডেকরেটর এনে পুরো কুপেটিকেই ফুল, বেলুন ও নানা সাজসজ্জায় ভরে তোলা হয়। কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ, ওই ডেকরেটরের ট্রেনে প্রবেশের কোনও সরকারি অনুমতি ছিল না। অর্থাৎ, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ভেঙেই তিনি সংরক্ষিত কামরায় ঢুকেছিলেন।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠতেই দায়িত্বে থাকা ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার (টিটিই)-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। কীভাবে বহিরাগত ব্যক্তি ট্রেনে ঢুকলেন, কে বা কারা অনুমতি দিলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় ফাঁক ছিল—সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। একাংশের মতে, ভালোবাসার মানুষকে চমকে দিতে এমন আয়োজন দোষের নয়। কিন্তু অন্যদের বক্তব্য, ট্রেন কোনও ব্যক্তিগত রিসর্ট নয়। নিরাপত্তার প্রশ্নে রেলের নিয়ম শিথিল হলে তার প্রভাব পড়তে পারে হাজার হাজার যাত্রীর উপর।
রেলও সেই যুক্তিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংরক্ষিত কামরায় অনুমতি ছাড়া কোনও বহিরাগত প্রবেশ করতে পারেন না। এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে নবদম্পতির ‘স্বপ্নের সফর’ ঘিরে তৈরি হওয়া সেই রোম্যান্টিক সাজই শেষ পর্যন্ত রেলের কাছে হয়ে উঠেছে বড়সড় নিরাপত্তা বিতর্ক।