রাজ্যে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে ফের তৎপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের নজরে হুগলির দুই এলাকা—শেওড়াফুলি ও হিন্দমোটর। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাথে নিয়ে এই দুই জায়গায় পৃথক দুটি তল্লাশি অভিযান চালান ইডি আধিকারিকরা। একদিকে চিটফান্ড যোগ, অন্যদিকে রহস্যময় ব্যবসায়িক লেনদেন—সব মিলিয়ে দুই বাসিন্দার বাড়িতে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।সূত্রের খবর, হুগলির শেওড়াফুলির চারাবাগান এলাকার বাসিন্দা পল্টু বড়ালের বাড়িতে আজ হানা দেয় ইডি-র একটি দল। তদন্তকারীরা তিনটি গাড়িতে চড়ে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পল্টুর বাড়িতে পৌঁছান। জানা গেছে, সম্প্রতি কলকাতার বড়বাজার এলাকার এক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় এই পল্টু বড়ালের নাম জানতে পারেন ইডি আধিকারিকরা। সেই সূত্র ধরেই আজ তাঁর চারাবাগানের বাড়িতে হাজির হন আধিকারিকরা (যার সঙ্গে আয়কর দপ্তরের তথ্যেরও যোগসূত্র রয়েছে)। তদন্তকারী দল সূত্রে খবর, পল্টু বড়াল খড়গপুরের একটি চিটফান্ড কোম্পানির মালিক ছিলেন। মূলত সেই বেআইনি আর্থিক লগ্নি সংস্থার ব্যবসার আড়ালে বিপুল অঙ্কের আর্থিক নয়ছয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পল্টু বড়াল সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও তাঁর এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের উৎস কী, তা জানতে তল্লাশি চালাচ্ছেন আধিকারিকরা।
শেওড়াফুলির পাশাপাশি এদিন সকালে ইডি-র আরেকটি দল হাজির হয় হিন্দমোটরের সাত নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। সেখানে ভাস্কর পন্ডিত নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দেন পাঁচজন ইডি আধিকারিকের একটি দল। দুটি গাড়িতে করে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা ওই এলাকায় পৌঁছান। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ভাস্করের বাড়িতে টানা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে খবর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, ভাস্কর পন্ডিত একটি সর্বভারতীয় নামী রিটেল চেন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই ব্যবসার সূত্র ধরে তিনি একাধিকবার বিদেশ সফরও করেছেন। তবে একজন রিটেল চেন ব্যবসায়ীর বাড়িতে হঠাৎ কেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হানা দিল, তা নিয়ে সম্পূর্ণ ধোঁয়াশায় রয়েছেন প্রতিবেশীরা। বিপুল অঙ্কের কোনো বিদেশি মুদ্রা বা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই কি এই হানা, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।দুটি এলাকাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুই জায়গাতেই নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ জারি রয়েছে।