কলকাতা: ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া—প্রতি বছর মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। মশা মারতে এতদিন ভরসা ছিল কয়েল, স্প্রে, ফগিং বা কীটনাশকের উপর। কিন্তু সেই ছবিই কি বদলে দিতে চলেছে প্রযুক্তি? বিজ্ঞানীদের তৈরি এক ক্ষুদে ড্রোন এখন আকাশে উড়ে বেড়ানো মশাকে খুঁজে বের করে তাড়া করছে, আর মুহূর্তের মধ্যেই তাকে নিধন করছে। প্রযুক্তির এই অভিনব আবিষ্কার ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে বিশ্বজুড়ে।
চিনের প্রযুক্তি সংস্থা Tornyol সম্প্রতি একটি এআই-চালিত (Artificial Intelligence) মাইক্রো-ড্রোনের প্রদর্শনী করেছে। আকারে হাতের তালুর থেকেও ছোট এই ড্রোনে রয়েছে হাই-স্পিড ক্যামেরা, অতিস্বনক সেন্সর এবং অত্যাধুনিক কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তি। উড়ন্ত মশার গতি, ডানার কম্পন এবং অবস্থান বিশ্লেষণ করে কয়েক সেকেন্ডেরও কম সময়ে লক্ষ্য স্থির করতে পারে এটি। তারপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মশার পিছু ধাওয়া করে মাঝ আকাশেই আঘাত হানে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পরীক্ষাগারের ভিতরে উড়ন্ত একটি ছোট পতঙ্গকে চোখের পলকে শনাক্ত করে ড্রোনটি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই দ্রুত গতিতে তাকে তাড়া করে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকেই একে 'মশার জন্য ড্রোন পুলিশ' বলেও মন্তব্য করেছেন।
নির্মাতা সংস্থার দাবি, এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য নির্বিচারে কীটনাশক ছড়ানো নয়, বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা। ফলে পরিবেশ দূষণ কমবে, উপকারী পোকামাকড়ের ক্ষতিও হবে না। ভবিষ্যতে হাসপাতাল, আবাসন, গুদামঘর কিংবা ডেঙ্গি-প্রবণ এলাকায় একসঙ্গে বহু ক্ষুদে ড্রোন মোতায়েন করে মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে এই প্রযুক্তি এখনও পরীক্ষামূলক স্তরেই রয়েছে। বাস্তব পরিবেশে প্রবল বাতাস, বৃষ্টি, গাছপালা বা একসঙ্গে অসংখ্য মশার মধ্যে একই দক্ষতায় ড্রোনটি কাজ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনও পরীক্ষা চলছে। সেই কারণেই এখনই এটিকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনার কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিটি সফল হলে মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে আরও পরিবেশবান্ধব এবং নির্ভুল উপায়ে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তব হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।
এক সময় যে কাজ করত মানুষের হাত বা কীটনাশক, ভবিষ্যতে সেই দায়িত্ব হয়তো নেবে আকাশে টহল দেওয়া এক ঝাঁক ক্ষুদে বুদ্ধিমান ড্রোন। ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটাই কি হতে চলেছে আগামী দিনের সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্র? এখন সেই উত্তরই খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।




