জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০ বাস্তবায়নের পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)। বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় তৃতীয় ভাষার কোনও লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তবে স্কুলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে তৃতীয় ভাষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। সেই মূল্যায়নে পাশ করতে না পারলে বোর্ড পরীক্ষায় অন্য সব বিষয়ে সফল হলেও পড়ুয়ারা পাশের সার্টিফিকেট পাবেন না।
CBSE-র নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নবম ও দশম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষার পাঠ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও বোর্ড নিজে তৃতীয় ভাষার পরীক্ষা নেবে না, সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে সেই বিষয়টির মূল্যায়ন করবে। এই মূল্যায়নে সফল হওয়াই হবে পাশের সার্টিফিকেট পাওয়ার অন্যতম শর্ত।
দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে। কোনও পড়ুয়া যদি দশম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে না পারেন, তাহলে বোর্ডের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে স্কুলকে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই পরীক্ষায় পাশ করলেই কেবল বোর্ডের পাশের সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই। নবম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষায় অকৃতকার্য হলেও কোনও পড়ুয়াকে আটকে রাখা হবে না; তাঁকে দশম শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে। তবে দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন তৃতীয় ভাষার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে অবশ্যই উত্তীর্ণ হতে হবে। তা না হলে বোর্ডের সার্টিফিকেট হাতে পাওয়া সম্ভব হবে না।
এর আগে চলতি বছরের ২৯ জুন CBSE ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তিন-ভাষা নীতি কার্যকর করার ঘোষণা করে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক পড়ুয়াকে তিনটি ভাষা পড়তে হবে, যার মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা ভারতীয় হতে হবে। যারা ইংরেজির পাশাপাশি কোনও বিদেশি ভাষা অধ্যয়ন করছে, তারাও সেই ভাষা চালিয়ে যেতে পারবে। তবে অতিরিক্তভাবে একটি ভারতীয় ভাষা তৃতীয় ভাষা হিসেবে পড়া বাধ্যতামূলক থাকবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আগে অষ্টম শ্রেণির পর অধিকাংশ পড়ুয়াই তৃতীয় ভাষার পাঠ বন্ধ করে দিত। নতুন নীতিতে সেই সুযোগ আর থাকছে না। নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত তৃতীয় ভাষার পাঠ এবং মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যারা দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় বসবে, তাদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে CBSE।
এদিকে, তৃতীয় ভাষা সংক্রান্ত এই নির্দেশিকাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদনও জমা পড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, দেশের বহুভাষিক ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করা, ভারতীয় ভাষাগুলির সংরক্ষণ, শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
CBSE-র এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তৃতীয় ভাষা আর শুধুমাত্র পাঠ্যসূচির একটি বিষয় হয়ে থাকবে না; বরং বোর্ডের পাশের সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।