নিউজ ডেস্ক: মার্কশিট থেকে মুছে যাচ্ছে ‘ফেল’ শব্দ, অভিনব সিদ্ধান্ত নীতীশ সরকারের। পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না হলে মার্কশিটে জ্বলজ্বল করত ‘ফেল’ শব্দটি। সেই গ্লানি ও মানসিক অবসাদের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। পড়ুয়াদের মনস্তাত্ত্বিকের চাপ কাটাতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল বিহার সরকার।
চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই বিহার স্কুল এগজামিনেশন বোর্ডের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির মার্কশিটে আর ‘ফেল’ শব্দটি লেখা থাকবে না। তার পরিবর্তে জায়গা করে নিচ্ছে ইতিবাচক বার্তা ‘এলিজিবল ফর স্কিল ট্রেনিং’ বা দক্ষতা প্রশিক্ষণের যোগ্য।
সম্প্রতি এক পর্যালোচনা বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, পরীক্ষায় ন্যূনতম নম্বর না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে পড়ুয়ার মেধা বা প্রতিভা হারিয়ে গিয়েছে। কোনও শিক্ষার্থী যেন হতাশায় পিছিয়ে না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই এই সংস্কার। শিক্ষা দফতর দ্রুত নিয়ম সংশোধন করে বিহার বোর্ডকে এই মর্মে নির্দেশ পাঠাবে। এর মূল লক্ষ্য, অকৃতকার্য পড়ুয়ারা যাতে বিহার বোর্ড অফ ওপেন স্কুলিং অ্যান্ড এগজ়ামিনেশনের মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে স্বনির্ভর হতে পারে।
শুধু তকমা বদলই নয়, দশম শ্রেণির ম্যাট্রিক সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় বসতে চলা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে সাহায্য করতে এক মাসের বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থাও করছে শিক্ষা দফতর। এর পাশাপাশি পাঠ্যবই-এর গণ্ডির বাইরে পড়ুয়াদের সার্বিক মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে শনিবার পালন করা হচ্ছে ‘নো-ব্যাগ ডে’।
এইদিন কোনও ভারী ব্যাগ না নিয়ে এসে পড়ুয়ারা গান, নাটক, আঁকার মতো সহ-পাঠ্যক্রমিক কাজে অংশ নিচ্ছে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় সহায়তার জন্য চালু হয়েছে ‘বিদ্যা সাথী’ অ্যাপ, যেখানে যুক্ত থাকছেন প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষক।
এছাড়া শিক্ষকদের কাজের মূল্যায়নে ৫ সেপ্টেম্বর চালু হতে চলেছে বিশেষ ‘টিচার সাপোর্ট পোর্টাল’, যার মাধ্যমে প্রতিটি জেলার গুণী শিক্ষকদের সম্মানিত করা হবে। শিক্ষার মান একেবারেই পরিবর্তন করতে চলেছে বিহার সরকার। এই উদ্যোগ আগামীদিনে পড়ুয়াদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।