কলকাতা: প্রায় দু’বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। অবশেষে ফের চালু হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেন কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস। রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এই ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই দেশের যাত্রীরা। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, পরিষেবা চালু হলে দুই বাংলার মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে, পাশাপাশি বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং পর্যটনের ক্ষেত্রেও নতুন গতি আসবে।
গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, হিংসা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। সেই সময় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই ভারতীয় রেল এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে যৌথভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়। অবশেষে দুই দেশের প্রশাসনের মধ্যে একাধিক দফার আলোচনার পর ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে সবুজ সংকেত মিলেছে।
মৈত্রী এক্সপ্রেস শুধু একটি ট্রেন নয়, ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক। ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল এই ট্রেন পরিষেবা চালু হয়েছিল। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কলকাতা স্টেশন থেকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াত করে এই ট্রেন। মাঝপথে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ভারত ও বাংলাদেশের অভিবাসন ও শুল্ক সংক্রান্ত সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া এই ট্রেনে যাত্রা করা যায় না।
এই ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছিলেন দুই দেশের সাধারণ মানুষ। চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ কলকাতায় আসেন। আবার ব্যবসা, শিক্ষা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা পর্যটনের উদ্দেশ্যেও নিয়মিত যাতায়াত করেন হাজার হাজার যাত্রী। ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকায় তাঁদের অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বিমান পরিষেবা বা দীর্ঘ সড়কপথের উপর নির্ভর করেছিলেন। ফলে সময়ের পাশাপাশি খরচও অনেক বেড়ে গিয়েছিল।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিষেবা পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই প্রায় শেষ। ট্রেনের রেক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সীমান্ত সংক্রান্ত সমন্বয় এবং যাত্রী পরিষেবার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় রেখে ট্রেন পরিচালনা করা হবে। খুব শীঘ্রই টিকিট বুকিং, যাত্রার দিন এবং সময়সূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৈত্রী এক্সপ্রেস ফের চালু হওয়া শুধু যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রেই নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক বার্তা। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে আবারও রেলের চাকা গড়াতে চলেছে দুই দেশের বন্ধুত্বের সেতুতে। বহু প্রতীক্ষিত এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে দুই বাংলার অগণিত মানুষের মনে।