কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে বইয়ের স্টলকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে তরজা। বামেদের বইয়ের স্টলে মার্ক্স-লেনিনের সাহিত্য থাকলেও স্বামী বিবেকানন্দের বই পাওয়া যায় না এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ। শুধু বইয়ের প্রসঙ্গেই থেমে থাকেননি তিনি, ইতিহাসের সূত্র টেনে সামনে এনেছেন স্বামী বিবেকানন্দের ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের নামও।
শনিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে শতরূপ ঘোষ দাবি করেন, সিপিআই (এম)-এর বইয়ের স্টলে স্বামী বিবেকানন্দের নিজের লেখা এবং তাঁকে নিয়ে লেখা একাধিক প্রামাণ্য বই নিয়মিত পাওয়া যায়। ফলে বামেদের বইয়ের স্টলে বিবেকানন্দের কোনও বই নেই এই বক্তব্য বাস্তবের সঙ্গে মেলে না বলেই দাবি তাঁর।
এরপরই আরও একটি ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শতরূপ। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ১২০ বছর আগে বাঙালির কাছে মার্ক্স ও লেনিনের ভাবধারার বই পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের ভাই ডঃ ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা বিবেকানন্দ-সম্পর্কিত একটি বইয়ের প্রচ্ছদের ছবিও সমাজমাধ্যমের পোস্টে যুক্ত করেন তিনি।
মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় কেষ্টপুরে একটি গণেশপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বামেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক শাসন এবং সেই সময়কার পুজোর পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, দুর্গাপুজোর সময় বিভিন্ন জায়গায় বামেদের বইয়ের স্টলে কার্ল মার্ক্স ও লেনিনের বই পাওয়া গেলেও স্বামী বিবেকানন্দ বা ভারতীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে লেখা বই তেমন দেখা যেত না।
শুধু বইয়ের স্টল নয়, বাংলার হিন্দু সমাজের ঐতিহ্য, শাস্ত্র, পঞ্জিকা এবং পুজোর পরম্পরা নিয়েও অতীতে বাম শাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গোৎসব ও মহালয়া ঘিরে বামেদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস এবং দ্বিজাতি তত্ত্বের মতো বিষয়ও বামেদের বইয়ের স্টলে গুরুত্ব পেত না বলে দাবি করেন শুভেন্দু।
এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণে সরব হন শতরূপ। তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল, বামেদের সাংস্কৃতিক চর্চায় স্বামী বিবেকানন্দকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয় এই ধারণাকে খণ্ডন করা। একই সঙ্গে ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বিবেকানন্দের পরিবার এবং বামপন্থী রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাসের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্রও রয়েছে।
পুজোর মরশুমে এই বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। একদিকে শাসকপক্ষ বাম আমলের সাংস্কৃতিক রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে সিপিআইএম ইতিহাস ও বইয়ের উদাহরণ সামনে রেখে সেই অভিযোগের জবাব দিচ্ছে।
ফলে দুর্গাপুজোর আগে বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আগামী দিনে আরও তীব্র হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।