কলকাতা: রাজ্যে পঞ্চায়েতের ১১ হাজারেরও বেশি শূন্যপদে নিয়োগের আগে বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের পথে সরকার। শুধু নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি নয়, বদলে যেতে চলেছে গোটা নিয়োগ ব্যবস্থাই। অতীতের বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ডিস্ট্রিক্ট লেভেল সিলেকশন কমিটি (ডিএলএসসি)-র পরিবর্তে একটি স্বাধীন, ইউপিএসসি-ধাঁচের নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে পঞ্চায়েত কর্মী নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, বর্তমানে যে নিয়োগ বিধি কার্যকর রয়েছে, সেখানে ডিএলএসসি-র পরিবর্তে নতুন নিয়োগকারী সংস্থার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে সংশোধনী আনা হবে। প্রয়োজনে এই দায়িত্ব রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) উপরও ন্যস্ত করা হতে পারে। তবে তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ করানো প্রয়োজন।
পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সেই নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। এখন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি প্রস্তুতি চলছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে মোট ১১,১৫৪টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯,৯৩৬টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬০টি এবং জেলা পরিষদ স্তরে ৫৫৮টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর আগে কয়েক হাজার পদে নিয়োগের অনুমোদন মিললেও সেই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত শুরু হয়নি। এবার সমস্ত শূন্যপদে একসঙ্গে নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার।
প্রশাসনের একাংশের মতে, নতুন নিয়োগ কাঠামো কার্যকর হলে জেলা স্তরে নিয়োগ নিয়ে ওঠা পক্ষপাত, প্রভাব খাটানো কিংবা অনিয়মের অভিযোগ অনেকটাই কমবে। কেন্দ্রীয় সংস্থার ধাঁচে লিখিত পরীক্ষা, মেধাতালিকা এবং স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপরই জোর দেওয়া হবে।
রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে গত কয়েক বছরে একাধিক বিতর্ক এবং আদালতের হস্তক্ষেপের পর এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। যদিও নতুন বিধি কবে কার্যকর হবে এবং নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ঠিক কবে প্রকাশিত হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সময়সূচি জানানো হয়নি। ফলে লক্ষাধিক চাকরিপ্রার্থীর নজর এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।