নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বারুইপুর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরো কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাতভর অভিযান চালিয়ে আরো ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের উপর হামলা, অগ্নিসংযোগ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং গণপিটুনিতে খুনের অভিযোগে এই গ্রেপ্তারি হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় ১৮ জনকে ধরা হয়েছিল। নতুন করে ২২ জন গ্রেপ্তার হওয়ায় বারুইপুরের তাণ্ডব মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪০। তদন্তকারীদের দাবি, আগের ধৃতদের জেরা করেই আরো কয়েকজনের নাম সামনে আসে। সেই সূত্র ধরেই একাধিক এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের পাকড়াও করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আগামী দিনেও ধরপাকড় অব্যাহত থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুর গিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি। তাঁর দাবি, ভোটে পরাজিত শক্তিগুলিই পরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে এলাকায় হিংসা ছড়িয়েছে। প্রশাসন প্রায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করেছে তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
অপরদিকে এনকাউন্টারে নিহত অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুকে ঘিরে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, তার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশিকা মেনে তিন সদস্যের বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এই বোর্ডে রয়েছেন তিনটি সরকারি মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা। এই বিশেষ বোর্ডের উপস্থিতিতেই প্রভাসের ময়নাতদন্তের সম্পন্ন হয় বলে জানা গিয়েছে।
ময়না তদন্তির পূর্বে প্রভাসের দেহের ডিজিটাল এক্স-রে করা হয়েছে, যাতে গুলির সঠিক অবস্থান ও প্রবেশপথ নির্ধারণ করা যায়। ময়নাতদন্তে প্রভাস মণ্ডলের শরীরে দুটি ক্ষতচিহ্নের সন্ধান মিলেছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে, গুলিটি পিঠ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে পেট ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। ফলে পিঠে এবং পেটে দুটি পৃথক ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। প্রভাস মন্ডলের এনকাউন্টারের তদন্তভার এখন রয়েছে সিআইডির উপরে।
বারুইপুরে এখনো থমথমে পরিস্থিতি। এলাকায় কড়া পুলিশি নজরদারি চলছে। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা। আইন হাতে তুলে নিলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ক্রমাগতই চলছে পুলিশি টহলদারি।