রাজ্যে ফের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও জালিয়াতির অভিযোগে কোমর বেঁধে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এদিন অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে হাওড়া। পাশাপাশি নদিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দিয়ে বাড়ি ঘিরে রেখে তল্লাশি চালানো হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাওড়ার ব্যাটরা থানার অন্তর্গত কুচিল সরকার লেনের থমথমে পরিবেশ। বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করে সেখানে তল্লাশি শুরু করেন ইডির আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এই হানা দেওয়া হয়। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সৌরভ একাধিক বেআইনি চিটফান্ড কোম্পানির সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বাজার থেকে তোলার পিছনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এছাড়া তিনি শেয়ার মার্কেটের ব্যবসার সাথেও যুক্ত। এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি আর্থিক লেনদেনের উৎস ও গতিপথ সন্ধান করতেই এদিন তাঁর বাড়িতে নথিপত্র ঘেঁটে দেখেন আধিকারিকরা।
হাওড়ার পাশাপাশি রাজ্যের আরও দুটি জায়গায় সমান্তরালভাবে তল্লাশি চালায় ইডি। আর্থিক প্রতারণার জাল কতটা গভীরে, তা খতিয়ে দেখতেই এই তৎপরতা।দুর্গাপুরের অন্ডালের শ্রীপল্লি সুভাষনগর রিক্সাডাঙাল এলাকায় ইসিএল (ECL)-এর প্রাক্তন কর্মী দিলীপ মল্লিকের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। অভিযোগ, দিলীপ ও তাঁর পুত্র দিগন্ত মল্লিক কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে অফিস খুলে সোশাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের ফাঁদ পেতেছিলেন। এই পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের খবর, সংগৃহীত টাকা দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। এর আগেও দিগন্ত গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিন পান। সম্প্রতি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেন দেখেই ইডি এই পদক্ষেপ নেয়।
অন্যদিকে,নদিয়ার রানাঘাটের কালিনারায়ণপুরে শুভ্রকান্তি নাগ ওরফে বাবাই নাগ নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। অভিযোগ, সুভ্রকান্তি 'স্টক গুরুকুল' নামে একটি ভুয়ো সংস্থা খুলে শেয়ারবাজারের প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে ইডি হানার সময় ব্যবসায়ী বা তাঁর পরিবারের কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, চিটফান্ড থেকে শুরু করে ক্রিপ্টো ও শেয়ারবাজারের নাম করে সাধারণ মানুষের টাকা লুঠের চক্রগুলির মূল উপড়ে ফেলতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্যজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালাল ইডি।