ক্যামেরার সামনে বসে রয়েছেন এক তরুণী। মুহূর্তের মধ্যে কাঁচির কোপে ঝরে পড়ছে কোমরছোঁয়া চুল। তারপর রেজারের একের পর এক টানে সম্পূর্ণ ন্যাড়া মাথা। ভিডিওর উপরে ভেসে উঠল একটি লাইন— "POV: My mom planned my marriage." অর্থাৎ, ‘মা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছেন।’
এর পর যা হওয়ার, তাই হল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই ধরে নেন, পছন্দের বিরুদ্ধে বিয়ে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদেই মাথা ন্যাড়া করেছেন ওই তরুণী। কেউ তাঁর 'সাহস'-এর প্রশংসা করেন, কেউ আবার পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁর 'বিদ্রোহ'-কে কুর্নিশ জানান। সহানুভূতি, সমর্থন, বিতর্ক— সব মিলিয়ে ভিডিওটি ভাইরাল হতে সময় লাগেনি।
কিন্তু সেই ভাইরাল গল্পের ভিতটাই যে বালির উপর দাঁড়িয়ে ছিল, তা জানালেন স্বয়ং ওই তরুণী।
তাঁর নাম কীর্থনা মেনন। ভাইরাল হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমার বিয়ে নিয়ে বাড়িতে কোনও চাপ ছিল না। মা-ও আমার বিয়ে ঠিক করেননি। ভিডিওর ক্যাপশন দেখে মানুষ যা ভেবেছেন, তা একেবারেই সত্যি নয়।”
কীর্থনার দাবি, মাথা ন্যাড়া করার সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তিনি মাকে সঙ্গে নিয়ে একটি মন্দিরে যান এবং সেখানেই মাথা মুণ্ডন করেন। সেটিকে তিনি নিছক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু একটি 'মজার' ক্যাপশনই সেই ঘটনাকে অন্য খাতে বইয়ে দেয়।
তাঁর কথায়, “আমি কল্পনাও করিনি, এত মানুষ এটাকে সত্যি বলে ধরে নেবেন। একজন মেয়ে মাথা ন্যাড়া করলেই কেন ধরে নেওয়া হবে, তার জীবনে বড় কোনও সমস্যা চলছে? এটাও তো হতে পারে, সে নিজের ইচ্ছাতেই করেছে!”
কীর্থনার অভিজ্ঞতা যেন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বাস্তবের চেয়ে 'গল্প' অনেক সময় দ্রুত ছড়ায়। একটি ক্যাপশন, কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও আর মানুষের কল্পনা— এই তিনের মিশেলে তৈরি হয়ে যায় এমন এক বয়ান, যা পরে সত্যি-মিথ্যার সীমারেখাকেই ঝাপসা করে দেয়।
ভাইরাল হওয়ার নেশায় আজকাল অনেকেই ক্যাপশনের আড়ালে গল্প তৈরি করেন। আবার সেই গল্পকেই সত্যি ভেবে ছড়িয়ে দেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। কীর্থনা মেননের ঘটনা তাই শুধু এক তরুণীর মাথা ন্যাড়া করার গল্প নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ার 'ভাইরাল সত্যি' আর বাস্তবের ফারাকেরও এক গুরুত্বপূর্ণ নজির।