কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জল্পনা যেন থামছেই না। একের পর এক নেতা-মন্ত্রী দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পথে হাঁটছেন। সেই আবহেই নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন রাজ্যের প্রাক্তন নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী তথা শ্যামপুকুরের তিন বারের বিধায়ক শশী পাঁজা। শনিবার তাঁর একটি সাক্ষাৎ ঘিরে শুরু হয়েছে বিস্তর রাজনৈতিক জল্পনা।
সূত্রের খবর, শনিবার দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া প্রাক্তন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে যান শশী। ঘটনাচক্রে, ক্লিনিকটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে। সেখানে প্রায় দু'ঘণ্টা ছিলেন দুই নেত্রী। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্য বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
শশী অবশ্য ক্লিনিকে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি "এমনিই" গিয়েছিলেন। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যায় জল্পনা থামেনি। বরং প্রশ্ন উঠেছে, এমন রাজনৈতিক আবহে তৃণমূলের এক প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে দলত্যাগী এক নেত্রীর দীর্ঘ বৈঠকের তাৎপর্য কী?
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার শুধু তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া নেত্রীই নন। তিনি সম্প্রতি এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া ২০ জন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের অন্যতম। সেই দল বর্তমানে কেন্দ্রের এনডিএ জোটের শরিক। কয়েক দিন আগেই এনডিএ-র বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একই সারিতে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল কাকলিকে। ফলে তাঁর সঙ্গে শশীর বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল আরও বেড়েছে।
দুই নেত্রীর মধ্যে অবশ্য রাজনীতির বাইরেও একটি মিল রয়েছে। দু'জনেই পেশায় চিকিৎসক। যদিও দীর্ঘ দিন ধরেই সক্রিয় চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে তাঁরা যুক্ত নন। কাকলির প্রতিষ্ঠিত ফার্টিলিটি ক্লিনিকেই শনিবারের এই সাক্ষাৎ হয়।
জল্পনায় আরও ঘি পড়ে রবিবার সকালে। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন কাকলির পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। সেখানে তিনি লেখেন, "শশী পাঁজা খুব শীঘ্রই তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন।" পোস্টটি অল্প সময়ের মধ্যেই মুছে ফেলা হলেও ততক্ষণে তা রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটি কেন মুছে ফেলা হল, সে বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি।
শশীর প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পাঠানো বার্তারও উত্তর মেলেনি। ফলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ১৪ হাজার ৬৩৩ ভোটে পরাজিত হন শশী পাঁজা। এরপর তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে খুব বেশি দেখা না গেলেও, তাঁর কন্যা তথা কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর পূজা পাঁজা গত ২১ জুলাই তৃণমূলের কালীঘাটের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। সেই ছবি দেখেই অনেকের ধারণা হয়েছিল, শশী এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন।
কিন্তু কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক এবং তার পরবর্তী সমাজমাধ্যমের পোস্ট সেই ধারণায় নতুন প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। শশী কি সত্যিই তৃণমূল ছাড়ার পথে? নাকি রাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎকে ঘিরেই অতিরঞ্জিত জল্পনা? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝে শশী পাঁজার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।