প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন একদিন আগেই। তার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করল বর্তমান রাজ্য সরকার। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দায়ের করা ওবিসি সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলে মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই মামলায় কোনও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পক্ষ চাইলে স্বাধীনভাবে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু করতে পারবেন।
মঙ্গলবার আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা ওবিসি-সংক্রান্ত আপিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনও তাদের পৃথক আপিল প্রত্যাহার করেছে। কমিশনের পক্ষে আইনজীবী কুণাল চট্টোপাধ্যায় আদালতকে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই সিদ্ধান্তে অন্য কোনও ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের আইনি অধিকার খর্ব হবে না। প্রয়োজন হলে তাঁরা পৃথকভাবে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
এই মামলার সূত্রপাত কলকাতা হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়কে ঘিরে। ২০২৪ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল, ওবিসি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বাতিল হওয়া ৭৭টি সম্প্রদায়ের মধ্যে ৭৫টিই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই তৎকালীন তৃণমূল সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিল।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বিজেপি সরকার জানিয়ে আসছিল, তারা এই মামলা আর এগিয়ে নিয়ে যাবে না। নতুন করে ওবিসি সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন এবং আইনি জটিলতা দূর করার পথেই হাঁটবে সরকার। সেই ঘোষণারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটল মঙ্গলবারের সিদ্ধান্তে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সোমবার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওবিসি মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকার অন্যতম কারণ ছিল ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা। তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের ভুল নীতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ভুল সংশোধনের লক্ষ্যে বিধানসভায় প্রয়োজনীয় আইন ইতিমধ্যেই পাশ করা হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা পুরনো মামলাও প্রত্যাহার করা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মামলা প্রত্যাহারের পর শিক্ষক নিয়োগ-সহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা থাকবে না। যেসব প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং যাঁদের মৌখিক পরীক্ষা এখনও বাকি রয়েছে, সেই সমস্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি সরকার ঘোষিত সংকল্পপত্রের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই নিয়োগ সম্পন্ন হবে।