মালদা: সাপে কামড়ালে মানুষ সাধারণত প্রাণভয়ে ছুটে যান হাসপাতালে। কেউ আবার ওঝার দ্বারস্থ হন। কিন্তু মালদার মোথাবাড়িতে যা ঘটল, তা যেন সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়। সাপের ছোবল খেয়ে আতঙ্কে পালানোর বদলে উল্টে সেই সাপটিকেই ধরে মাথায় কামড় বসালেন এক যুবক! এরপর চার ফুটেরও বেশি লম্বা সাপটি হাতে নিয়েই হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। এই অবিশ্বাস্য ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলায়। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ঘটনার ছবি ও ভিডিও।
ঘটনাটি মোথাবাড়ি থানার মানুটোলা এলাকার। আহত যুবকের নাম ফারুক মোমিন (২৯)। বাড়ি দুলালগঞ্জে। পেশায় দিনমজুর। শনিবার একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করছিলেন তিনি। কাজের ফাঁকেই আচমকা একটি বড় সাপ তাঁর ডান পায়ে ছোবল মারে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাধারণ মানুষের মতো ভয় না পেয়ে মুহূর্তের মধ্যেই সাপটির মাথা চেপে ধরেন ফারুক। তারপর রাগের বশে সাপটির মাথায় দাঁত বসিয়ে দেন। ঘটনায় হতভম্ব হয়ে যান আশপাশের শ্রমিকেরা। পরে সাপটিকে শক্ত করে হাতে ধরে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
হাতে জ্যান্ত সাপ নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ফারুকের দাবি, হাসপাতালে দ্রুত পৌঁছতে তিনি একটি টোটো থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু হাতে সাপ দেখে কোনও চালকই তাঁকে তুলতে রাজি হননি। বাধ্য হয়ে কিছুটা পথ হেঁটেই যেতে হয় তাঁকে।
শেষ পর্যন্ত সাপটিকে সঙ্গে নিয়েই তিনি পৌঁছন বাঙিটোলা গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে উপস্থিত রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং নার্সদের মধ্যেও হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। চিকিৎসকেরা দ্রুত তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন। অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাতেই তাঁকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের দাবি, সময়মতো অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (এএসভি) দেওয়া সম্ভব হওয়ায় বর্তমানে ফারুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি আপাতত বিপন্মুক্ত।
এদিকে ঘটনার ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অনেকেই ফারুকের সাহসের প্রশংসা করলেও, সর্পবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সাপ ধরার বা কামড়ানোর মতো বিপজ্জনক কাজ কোনও অবস্থাতেই করা উচিত নয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাঁদের দাবি, যে সাপটি ফারুককে কামড়েছিল সেটি সম্ভবত নির্বিষ। তবে সাপ বিষধর কি না, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তাই সাপের কামড় লাগলে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়াই একমাত্র নিরাপদ পথ।
মালদার এই ঘটনায় যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনই চিকিৎসক এবং বনকর্তাদের বার্তা স্পষ্ট— সাপের কামড়ের প্রতিশোধ নয়, জীবন বাঁচানোই হোক প্রথম লক্ষ্য। কারণ সাপকে ধরতে বা মারতে গিয়ে আরও বড় বিপদ ডেকে আসতে পারে।