নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞান তথা শারীরবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেলেন বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেমান এবং জর্জ নাগেল। সোমবার পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা জানিয়েছে, “আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিক্স সংক্রান্ত আবিষ্কারের” জন্য তাঁদের এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। ৫৪ বছর বয়সি মার্কিন বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসেরথ, ৭১ বছর বয়সি জার্মান বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান এবং ৭৩ বছর বয়সি জার্মান বিজ্ঞানী জর্জ নাগেলকে সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে। তিন বিজয়ীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে মোট ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লক্ষ মার্কিন ডলার) পুরস্কারমূল্য।
নোবেল কমিটির মতে, অপটোজেনেটিক্সের মাধ্যমে জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ চালু বা বন্ধ করা সম্ভব। এই পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে ব্যবহার করা হচ্ছে মস্তিষ্কের জটিল রহস্য উন্মোচনের জন্য।প্রতি বছর নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সূচনা হয় শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কার দিয়ে। এরপর পর্যায়ক্রমে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি এবং অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সুইডিশ উদ্ভাবক ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী পাঁচটি মূল নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯০১ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মূলত কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রিক্সব্যাঙ্কের উদ্যোগে অর্থনীতিতে আরও একটি পুরস্কার চালু করা হয়। গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞানের বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য। এর মধ্যে রয়েছে আলেকজান্ডার ফ্লেমিংয়ের পেনিসিলিন আবিষ্কার, যার জন্য তিনি ১৯৪৫ সালে নোবেল পান। ১৯৩০ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার মানবদেহের বিভিন্ন রক্তের গ্রুপ আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কারে সম্মানিত হন।
https://x.com/NobelPrize/status/2107041023977513263
২০২৫ সালে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানী মেরি ব্রাঙ্কো এবং ফ্রেড র্যামসডেল এবং জাপানের বিজ্ঞানী শিমন সাকাগুচি। সুস্থ কোষকে কী ভাবে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা আক্রমণ থেকে রক্ষা করে, সেই বিষয়ে তাঁদের গবেষণা ভবিষ্যতে ক্যানসারের মতো রোগের নতুন চিকিৎসার পথ খুলে দিতে পারে।
নোবেলজয়ীদের নির্বাচন করেন সংশ্লিষ্ট পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলির নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি। নোবেল পুরস্কার সাধারণত স্টকহোমে প্রদান করা হয়। তবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের অসলোতে। আলফ্রেড নোবেলের জীবদ্দশায় সুইডেন ও নরওয়ের মধ্যে যে রাজনৈতিক ইউনিয়ন ছিল, এই ঐতিহ্যের সঙ্গে তার যোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
আলফ্রেড নোবেল তাঁর উইল স্বাক্ষর করার ১২৫ বছরেরও বেশি সময় পরেও নোবেল পুরস্কার তার বহু পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটে। সুইডেন ও নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নোবেলজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের সম্মানে আয়োজন করা হয় বিশেষ গালা ভোজের।
