স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেট ম্যাচ খেলে বাড়ি ফেরার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারল ক্রিকেটারদের গাড়ি। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল ৪ জন তরুণ ক্রিকেটারের। গুরুতর আহত আরও দু’জন। বুধবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে সুলতানপুরের সুখবাদেরি এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ছ’জনের দলটি লখনউ থেকে ক্রিকেট ম্যাচ খেলে মারুতি আর্টিগায় করে দেওরিয়ার দিকে ফিরছিল। ভোর প্রায় ৫টা ১৫ মিনিট নাগাদ ধনপতগঞ্জ থানা এলাকার কাছে আচমকাই তাদের গাড়ি একটি অজ্ঞাতপরিচয় ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারে। ধাক্কাটা এতটাই জোরালো ছিল যে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাকর্মীরা এবং পুলিশ। আহত দু’জনকে প্রথমে কুমারগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের শারদা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
নিহত চার ক্রিকেটারের নাম নিত্য প্রজাপতি (২২), ইরফান আনসারি (২০), অনিকেত (২৪) এবং আনন্দ যাদব (২৩)। আহত দু’জন রাজু (২২) এবং জয়ন্ত শর্মা (৩০)। তাঁদের মধ্যে জয়ন্তও ক্রিকেট খেলেন। সুলতানপুরের পুলিশ সুপার বিনীত জয়সওয়াল জানিয়েছেন, লখনউয়ে একটি ম্যাচ খেলার পরেই ওই ৬ জন দেওরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যে ট্রাকটির পিছনে গাড়িটি ধাক্কা মেরেছিল, সেটির খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ট্রাকটির কোনও হদিস মেলেনি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে গাড়িটির গতিবিধি এবং এক্সপ্রেসওয়ের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই ট্রাকের পিছনে গিয়ে ধাক্কা মারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাইছে না পুলিশ।
https://x.com/ArunAzadchahal/status/2107689907296911415
৪ ক্রিকেটারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁদের সতীর্থদের মধ্যে। দলের অধিনায়ক মোহিত পাণ্ডে জানিয়েছেন, মৃত ৪ জনই প্রতিভাবান ক্রিকেটার ছিলেন এবং নিয়মিত স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন বেসরকারি ক্রিকেট ম্যাচ খেলতেন। অনিকেতকে দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে উল্লেখ করে মোহিত বলেন, তাঁর খেলার ধরণ অনেকটাই কপিল দেবের মতো ছিল। নিত্য প্রজাপতি এবং ইরফান আনসারি ছিলেন দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার। অন্যদিকে আনন্দ যাদবের পরিচিতি ছিল জোরে বল করার জন্য। কয়েক ঘণ্টা আগেও যাঁরা মাঠে নেমে ক্রিকেট খেলেছেন, তাঁদের এ ভাবে চলে যাওয়ার ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না সতীর্থরা। ম্যাচ শেষ করে হাসিমুখে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু পথেই ঘটে গেল সব শেষ করে দেওয়া সেই দুর্ঘটনা।
আহত জয়ন্ত শর্মার বয়ানেও উঠে এসেছে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। তাঁর দাবি, গাড়িতে থাকা ৬ জনই সেই সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকা কীভাবে গাড়িটি ট্রাকে গিয়ে ধাক্কা মারল, সে সম্পর্কে তাঁরাও কিছু বুঝতে পারেননি। দুর্ঘটনার পর পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তাকর্মীরাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে এবং মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য দুর্ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতপরিচয় ট্রাকটিকে খুঁজে বার করা। সেই সঙ্গে ঠিক কী কারণে গাড়িটি ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারল, গাড়িটির চালক কে ছিলেন এবং দুর্ঘটনার আগে গাড়িটির গতিবিধি কেমন ছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একটি ক্রিকেট ম্যাচের পর ঘরে ফেরার পথে চার তরুণ ক্রিকেটারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ফের এক বার এক্সপ্রেসওয়েতে রাতভর বা ভোরের যাত্রায় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে দিল।
