কলকাতা, অঙ্কন দাস: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির জেরে নন্দলাল বসুর তৈরি ফলক ভাঙচুর করা হল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক এটি। আরএসএস'র ছাত্রসংগঠন এবিভিপি'র বিরুদ্ধে নন্দলাল বসুর তৈরি ফলক ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। যদিও, অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি।
বুধবার রাত থেকে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। এরই প্রতিবাদে যাদবপুর অভিযানের ডাক দেয় এসএফআই ও এবিভিপি, এই দুই দলই।যাদবপুর থানার সামনে সমর্থকদের জমায়েত করেন এবিভিপি সমর্থক। গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু করেন তাঁরা। অন্যদিকে ৮বি বাস স্ট্যান্ডে নিজেদের সদস্যদের জমায়েত করেছিল এসএফআই। এই ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কঠিন পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ৮ বি বাসস্ট্যান্ড, গোলপার্ক-সহ বেশ কয়েকটি এলাকা। ব্যারিকেড করে আটকানো ছিল রাস্তা। এই ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়ে। 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক' করার ডাক দেয় এবিভিপি'র।
ঠিক এই জায়গাতেই প্রতিবাদ করেন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক দীপ্সিতা ধর। সংঘর্ষের প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘আমরা টিভিতে দেখলাম, ভিডিয়োতে দেখলাম; কিছু লোক অরবিন্দ ভবন পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের পুলিশ অ্যারেস্ট করল না কেন? তাঁদের তো আইডেন্টিফাই করা সহজ। শুভেন্দু অধিকারী এত বড় বড় করে গুণ্ডাদমন আইনের কথা বললেন। যে বহিরাগত লোকেরা রাষ্ট ১২টার পর ইউনিভার্সিটির মধ্যে ঢুকে একটা ইউনিভার্সিটি জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল তারা গুণ্ডা নয়? তারা এখনও পর্যন্ত অ্যারেস্ট হল না কেন?’
সেই ঘটনা অনুযায়ী; বাম ও এবিভিপি ছাত্রদের বিক্ষোভে, কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের বাইরে জাতীয় পতাকা ও গেরুয়া পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এবিভিপি ছাত্ররা। সেসময় গেটে তালা ও প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল। একারণে গেট বেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। অন্যদিকে ভিতরে তখন এআইডিএসও-র ছাত্ররাও লাল পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। গেটের ভিতর ও বাইরে- দুদিকেই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। বাম সমর্থকদের দাবি, 'সেই সময় গেট ধরে প্রবল ধাক্কাধাক্কি করেন এবিভিপি সমর্থকরা। ফলকে লাথিও মারা হয়। এরপর সেই ফলক ভেঙে যায়। তারপর সেই শতদল ফলক ছুঁড়ে ফেলে দেয় অভ এবিভিপি সমর্থকরা।
এই প্রসঙ্গে এক ছাত্রী বলেন, 'খুব লজ্জা লাগছে। এদের তো শিক্ষার সঙ্গে কোনও যোগ নেই। পা দিয়ে ভেঙে ফেলল। এটা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য।' কবি অংশুমান কর প্রতিবাদ করেন, 'আসলে যাঁরা এই কাজ করলেন, মুখে যাই বলুক ওদের ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে একদমই কোনও ধ্যান-ধারনা নেই। ভক্তি-শ্রদ্ধা কণা মাত্র নেই। আসলে কয়েকটি চেনা মুখ নিয়ে ওরা সেলিব্রেট করেন। এর বাইরেও তো মনিষীরা আছেন। ভাবা যায় নন্দনাল বসুর তৈরি করা এমব্লেম ভেঙে দিল? যাঁরা ভেঙেছেন, কতজন জানেন নন্দলাল বসু তৈরি করেছেন এটা? আমি কড়া সমালোচনা করছি।' প্রতিবাদে সোচ্চার হন সাহিত্যিক তিলোত্তমা মজুমদারও। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত অনুচিত কাজ হয়েছে। বাংলায় বিগত কুড়ি বছর ধরে এমন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে এর প্রভাব সমস্ত স্তরে পড়েছে। অপসংস্কৃতির প্রভাব পড়ছে।’