রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে এক বড়সড় রদবদল ঘটাল শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তর। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, একসঙ্গে ৩৩ জন 'আইপিএস' অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। এই রদবদলের মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া ও চর্চিত বিষয় হলো আইপিএস সুপ্রতিম সরকারের বদলি। রাজ্যের গোয়েন্দা প্রধান তথা 'সিআইডি'র এডিজি পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদ এডিজি, টেলিকমিউনিকেশনে। রাজ্য পুলিশের ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্ব থাকে এই পদের হাতে, যা পুলিশ মহলে খুব একটা প্রভাবশালী পদ হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে সিআইডির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে তাঁর এই অপসারণকে পদাবনতি হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশন সুপ্রতিম সরকারকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে এডিজি সিআইডি করেছিল। পরে তাঁকে তামিলনাড়ুর পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের পুলিশ অবজারভার হিসেবেও পাঠানো হয়। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর তাঁকেই গোয়েন্দা প্রধানের পদে বহাল রাখা হয়েছিল। এই মুহূর্তে সিআইডি একাধিক হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্ত করছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো নির্বাচনের সময় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা জোড়া অভিযোগ। এই মামলার তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুপ্রতিম সরকারের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হতে হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র মাস খানেকের মাথাতেই তাঁকে এই পদ ছাড়তে হলো।
সুপ্রতিম সরকারের জায়গায় রাজ্যের নতুন গোয়েন্দা প্রধান বা এডিজি সিআইডি করা হয়েছে আইপিএস নটরাজন রমেশবাবুকে। তিনি এতদিন কারা বিভাগের ডিজি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ মহলে অত্যন্ত দক্ষ এবং কড়া অফিসার হিসেবে নটরাজন রমেশবাবুর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। নতুন সরকারের এই মেগা রদবদল রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।