বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম দাপুটে নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তবে এখন তিনি আর সাংসদ নন, না আছেন প্রদেশ কংগ্রেসের কোনো দায়িত্বে। তারপরেও এতদিন ছিলেন কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে। সেই বলয়েই এবার বড় পরিবর্তন। প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীর ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা কমিয়ে ‘এক্স’ ক্যাটাগরিতে আনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক অন্দরমহল।
বহরমপুর অধীরের দুর্গ বলেই পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই বহরমপুরের দুর্গ হারানোর পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল তার নিরাপত্তা নিয়ে। সাংসদ না থাকলেও কেনো একই স্তরের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাচ্ছেন অধীর? সেই প্রশ্নই সবচেয়ে জোরালোভাবে তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ ছিল, কোনো সরকারি পদে না থেকেও ‘ওয়াই প্লাস’ নিরাপত্তা বজায় থাকা নিছক কাকতালীয় নয়। এমনকি ব্যক্তিস্বার্থে অধীর বিজেপির বিরুদ্ধে ততটা সরব নন বলেও কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। যদিও সেই অভিযোগকে কখনও গুরুত্ব দেননি কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা।
এরপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নিরাপত্তা আরো জোরদার হওয়ায় বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। কিন্তু বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় আসার মাত্র দু'মাসের মধ্যেই নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।
যদিও এই জল্পনায় কোনোরকম কর্ণপাত করতে নারাজ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তার কথায় , 'কমেছে নাকি বেড়েছে আমি জানি না। আগেও কয়েকজন থাকত, এখনো পর্যন্ত দেখছি আছে। বাকিটা আমার জানা নেই। তবে আমি কোনোদিন কারুর কাছে নিরাপত্তা চাইনি।' এই মন্তব্যে মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট কেন্দ্রের সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতায় আসেননি অধীর।
প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষিয়ান নেতার নিরাপত্তার স্তর কমেছে, কিন্তু রাজনৈতিক বিতর্কের মাত্রা যেন আরো একধাপ বেড়েছে। অনেকের প্রশ্ন, এটা কি শুধুই প্রশাসনিক নিয়মের ফল, নাকি বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত? প্রশ্ন অনেক কিন্তু উত্তর অজানা!