শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে ফের ট্রলারডুবির ঘটনা। রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে সাগর উপকূলবর্তী এলাকায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে ইলিশ ধরে ফেরার পথে ডুবে যায় একটি মাছধরা ট্রলার। তবে আশপাশের ট্রলারগুলির তৎপরতায় ১২ জন মৎস্যজীবীকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাকদ্বীপের এক বাসিন্দা লক্ষ্মীনারায়ণ দাসে। তারই মালিকানাধীন এফ বি সিদ্ধিবিনায়ক ট্রলারটি। এই ট্রলারটি গত ১০-ই জুলাই সাগরদ্বীপের বেনুবন থেকে ১২ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে গভীর সমুদ্রে ইলিশ ধরতে রওনা দেয়। মাছ ধরে সোমবার রাতে উপকূলে ফেরার সময় বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চলার ট্রলারটি। তবে বরাত জোরে প্রানে বেঁচে যান তারা।
এ বিষয়ে সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, উত্তাল সমুদ্রে ট্রলারের নীচের অংশে ফাটল ধরায় দ্রুত জল ঢুকতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রলারটি ডুবে যেতে থাকে। নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে ঝাঁপ দেন। প্রবল ঢেউয়ের মাঝে কোনরকমে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। আশেপাশে অন্যান্য ট্রলারের মৎস্যজীবীদের সহযোগিতায় তাদের প্রাণ বাঁচে। ধীরে ধীরে সকলকে উদ্ধার করে নামখানা ঘাটে আনা হয়।
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েকদিন আগেই শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে রওনা দেয় 'জয় মা কালী' নামে একটি ট্রলার। সেই ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে বকখালি উপকূলের কাছে উল্টে থাকা ট্রলারটির হদিশ মেলে। ট্রলারের ভিতর থেকে ১০ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন। এরই মাঝে আবার ট্রলার দুর্ঘটনা। চিন্তা ধরাচ্ছে মৎসজীবীদের।
বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তের জেরে উত্তাল রয়েছে সমুদ্র। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী কয়েকদিন গভীর সমুদ্রে না যাওয়া এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও, ইলিশের মরসুমে একাধিক ট্রলার সমুদ্রে নামছে। তাতেই প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশংকা।