কলকাতা, অঙ্কন দাস: বুধবার রাতে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে 'জেনারেল বডি মিটিং' ডাকা হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই হাজির হয় এবিভিপি সদস্যরা। এরই সূত্র ধরে এবিভিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি বাঁধে। এবিভিপি’র দাবি, 'বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন নেই। তা সত্ত্বেও জিবি-র মিটিং ডাকা হয় কীভাবে?' এর প্রতিবাদেই ৭০ থেকে ৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এলাকার বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়।
এরই প্রতিবাদে যাদবপুর অভিযানের ডাক দেয় এসএফআই ও এবিভিপি, এই দুই দলই।যাদবপুর থানার সামনে সমর্থকদের জমায়েত করেন এবিভিপি সমর্থক। গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু করেন তাঁরা। অন্যদিকে ৮বি বাস স্ট্যান্ডে নিজেদের সদস্যদের জমায়েত করেছিল এসএফআই। এই ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কঠিন পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ৮ বি বাসস্ট্যান্ড, গোলপার্ক-সহ বেশ কয়েকটি এলাকা। ব্যারিকেড করে আটকানো ছিল রাস্তা। এই ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়ে। 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক' করার ডাক দেয় এবিভিপি'র।
বাম ও এবিভিপি ছাত্রদের বিক্ষোভে, কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের বাইরে জাতীয় পতাকা ও গেরুয়া পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এবিভিপি ছাত্ররা। সেসময় গেটে তালা ও প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল। একারণে গেট বেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। অন্যদিকে ভিতরে তখন এআইডিএসও-র ছাত্ররাও লাল পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। গেটের ভিতর ও বাইরে- দুদিকেই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। বাম সমর্থকদের দাবি, 'সেই সময় গেট ধরে প্রবল ধাক্কাধাক্কি করেন এবিভিপি সমর্থকরা। ফলকে লাথিও মারা হয়। এরপর সেই ফলক ভেঙে যায়। তারপর সেই শতদল ফলক ছুঁড়ে ফেলে দেয় অভ এবিভিপি সমর্থকরা। এইঘটনায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এবিভিপি। তারা জানায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক এজেন্ডা তৈরির চেষ্টা বাম ও অতি বামের। তাদের কার্যকর্তাদের ওপর আক্রমণের ঘটনাকে লঘু করে দেখার চেষ্টা চলছে। চলুন জানা যাক, প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কী বলেছে এবিভিপি-
'কলকাতা, ২০ আগস্ট ২০২৬: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপির কার্যকর্তাদের উপর গতকাল সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কার্যকলাপ, হিংসা এবং অশান্তির যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা নিয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত হওয়া জরুরি।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ ছাত্র সংসদ না থাকা সত্ত্বেও DSF, SFI এবং বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে জি বি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে গেলে এবিভিপির যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি শ্রী নিখিল দাসকে কেন্দ্র করে দলিত এবং তফশিলী জাতি বলে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে এবং বিভিন্ন নোংরা ভাষার ব্যবহার করে। পরবর্তীতে শ্রী নিখিল দাস সহ পাঁচজন কার্যকর্তার উপর হামলা চালানো হয় । হামলায় তাঁরা আহত হন এবং তাদের নিকটবর্তী হাসপাতাল- এ চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
গতকালের হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে এবং আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা হিংসা, অশান্তি ও ভয় দেখানোর রাজনীতির অভিযোগও প্রশাসনকে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না। রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্যের কারণে কোনও ছাত্র বা কার্যকর্তার উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে হিংসা ও অশান্তির কেন্দ্র নয়, বরং ভয় মুক্ত, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশাসনের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।'
(এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি প্রদেশ কার্যালয় সম্পাদক শ্রী বিমান চন্দ্র দ্বারা প্রকাশিত।)
এই প্রসঙ্গে এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক শ্রী নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘কাল রাতে ঘটনার প্রতিবাদে আজ এবিভিপির পক্ষ থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অভিযান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। গোলপার্ক থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছায়। সেখানে SFI, DSF এবং বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের পক্ষ থেকে কুরুচিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি গেটের ভিতর থেকে বিভিন্ন সামগ্রী ছুড়ে এবিভিপির কার্যকর্তাদের উপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবিভিপি। আজকের কর্মসূচি শেষে গতকালের ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার কথা ছিল। পূর্বনির্ধারিত সময় দেওয়া সত্ত্বেও উপাচার্য ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ায় এবিভিপি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এমন পরিস্থিতিতে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের অভিযোগ শোনা এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।’