আশা কর্মীর আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বাঁকুড়ার অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতাল। মৃতদেহ আটকে রেখে চলে বিক্ষোভ। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি। মৃত আশা কর্মীর নাম রুম্পা মন্ডল। তার বাড়ি ভালুকাথোল গ্রামে। গোপীনাথপুর সাব সেন্টারে আশা কর্মীর দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। মৃতার সহকর্মীদের অভিযোগ, আয়ুষ্মান যোজনা ই-কেওয়াইসি-র অতিরিক্ত কাজের চাপই কেড়ে নিয়েছে রুম্পা মণ্ডলের প্রাণ। এরই পাশাপাশি শান্তর আর বিজেপি বিধায়িকা চন্দনা বাউরির আশা কর্মীদের উদ্দেশ্যে করা মন্তব্যকে ঘিরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব হন আশা কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, গোপীনাথপুর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত আশা কর্মী রুম্পা মণ্ডল সোমবার সকালে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তার পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আর তারপরেই রীতিমত রণক্ষেত্রের চেহারা নয় গোটা হাসপাতাল চত্বর। কারণ তার সহকর্মীদের দাবি, প্রসূতি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যের দায়িত্বের পাশাপাশি আয়ুষ্মান যোজনার ই-কেওয়াইসির কাজের অতিরিক্ত চাপ পড়ছিল তাদের উপর। আর এই চাপেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে রুম্পা। শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছিল সে। আর তাতেই এই পরিণতি বলে অভিযোগ করেন তারা।
সোমবার হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অন্যান্য আশা কর্মীরা। শববাহী গাড়ি আটকে রেখে তারা দাবি তোলেন, অবিলম্বে আশা কর্মীদের আয়ুষ্মান যোজনার অতিরিক্ত কাজ থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গঙ্গাজলঘাঁটি থানার পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে রীতিমত বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ বিষয়ে বিধায়িকা চন্দনা বাউরী বলেন, আয়ুষ্মান যোজনার ই-কেওয়াইসির কাজের জন্য এক জায়গায় ডেকে আনা হয় গ্রামবাসীদের। এর ফলে চাষের মরশুমে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছিল। তাই তিনি আশা কর্মীদের পরামর্শ দিয়েছিলেন আলাদা জায়গায় বসে কাজ করার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কাউকেই কোনো অপমানজনক কথা বলেননি।
বিক্ষোভের খবর পৌঁছাতেই হাসপাতালে যান জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন, বড়জোড়ার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ এবং বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে প্রশাসন ও আশা কর্মীদের মধ্যে বৈঠক হলেও কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। আগামীদিনে প্রশাসন এর জন্য কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেটাই দেখার বিষয়।