কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: 'ধর্মতলায় কর্মখালি'- কবি সুকুমার রায়ের অমোঘ এই শব্দবন্ধ যেন সত্যি হতে চলেছে। ধর্মতলার 'বিধান মার্কেট' সরতে চলেছে ৭দিনের মধ্যে। জোকা লাইনের মেট্রোর কাজ শুরু করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আর একারণেই, ওই বহু পুরনো বাজারটির দোকানদারদের অস্থায়ীভাবে অন্যত্র সরানো হচ্ছে। উচ্চ আদালত জানিয়ছে, 'জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রো প্রকল্পের জন্য আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিধান মার্কেট এলাকায় কাজ শুরু করতে হবে।' জোকা-ধর্মতলা 'পার্পল লাইন' কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বিধান মার্কেট এলাকায় জমি প্রয়োজন ছিল। সেই কাজ শুরু করার জন্যই ব্যবসায়ীদের সরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। মাথায় হাত পড়ে ব্যবসায়ীদের। আর তাই; পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা না করেই তাঁদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মার্কেটের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীরা।
মামলাটি ওঠে বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চে। ব্যবসায়ীদের দাবিকে গুরুত্ব দেওয়ার বিশেষ নির্দেশ আসে। আদালতের বলে, 'মেট্রোর কাজের স্বার্থে আপাতত ওই এলাকার 321টি দোকান অন্যত্র সরানো যেতে পারে। তবে তা স্থায়ী উচ্ছেদ হিসাবে গণ্য হবে না।' এ ক্ষেত্রে বেঞ্চ মেট্রো প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে লিখিত ভাবে জানাতে হবে যে, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের তাঁদের পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে আনা হবে । অর্থাৎ, উন্নয়নের কাজের জন্য সাময়িকভাবে দোকান সরলেও তাঁদের পুরনো ব্যবসায়িক অধিকার একেবারে বাতিল হয়ে যাবে না।
শুধু মুখের প্রতিশ্রুতি নয়, নতুন জায়গায় ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম পরিষেবা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।আদালতের নির্দেশ; জল, বিদ্যুৎ-সহ প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করতে হবে। সেই সব ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পরেই দোকানদারদের সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। ১৯৫৪ সালে প্রতিরক্ষা দফতরের জমিতে এই বাজার গড়ে ওঠে। বহু বছর ধরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির জীবিকা এই বাজারের উপর নির্ভরশীল।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন,'মেট্রো প্রকল্পের জন্য জায়গা প্রয়োজন হলেও পুনর্বাসন নিয়ে কোনও লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। নির্মাণকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল।' একারণেই শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় ব্যবসায়ীদের। এদিনের নির্দেশে এক দিকে যেমন মেট্রো প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুলল,তেমনই অন্য দিকে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও সুরক্ষিত করার চেষ্টা করা হল।