নয়াদিল্লি: Cockroach Janta Party (CJP)-র প্রস্তাবিত প্রতিবাদ ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ মহিলা পুলিশ বাহিনী ‘পিঙ্ক ফোর্স’কে সামনের সারিতে মোতায়েন করেছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি, নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে পুলিশকর্মীদের ইউনিফর্মে লাগানো হয়েছে বডি ক্যামেরা। জওহরলাল নেহরু মার্গ থেকে যন্তর মন্তর একাধিক এলাকায় চলছে কড়া নজরদারি।
https://www.facebook.com/reel/28637197899278595
১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে CJP-র ‘জন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে ঘিরে এই বিশেষ ব্যবস্থা। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ একাধিক প্রতিবাদীর এই কর্মসূচির মূল দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে CJP। যদিও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলি প্রত্যাখ্যান করেছে।
কেন সামনের সারিতে পিঙ্ক ফোর্স?
সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ধস্তাধস্তির অভিযোগ সামনে আসার পরই পিঙ্ক ফোর্সের মোতায়েন বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। এই বিশেষ বাহিনীতে রয়েছেন মহিলা পুলিশকর্মীরা। প্রতিবাদস্থলে ভিড় সামলানো, মহিলা নিরাপত্তাকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।
শুধু পিঙ্ক ফোর্স নয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশকর্মীদের বডি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা পরিস্থিতির ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি যাচাই করতে রেকর্ডিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
মেট্রো থেকে রেল যাতায়াতেও প্রভাব
প্রতিবাদের জেরে রাজধানীর সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও প্রভাব পড়েছে। নিরাপত্তার কারণে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। কিছু ট্রেন পরিষেবাতেও বাতিলের প্রভাব পড়েছে বলে খবর। পাশাপাশি, দিল্লির বিভিন্ন প্রবেশপথে যানবাহন পরীক্ষা এবং সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশের অনুমতি না মেলায় CJP-র এই কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রতিবাদে যোগ দিতে আসা বেশ কয়েকজনকে আটক করার খবরও সামনে এসেছে। তবে কতজন শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
CJP-র প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন নজরের কেন্দ্রে। একদিকে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে প্রতিবাদ, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ এই দুইয়ের মধ্যে রাজধানীর পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।
