সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং পুরসভায় ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বড়সড় বিপাকে পড়লেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর পুরসভার সদ্যপ্রাক্তন পুরপ্রধান গৌতম গোস্বামী। ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপোষণ এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় সরাসরি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মহকুমাশাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ। এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই হদিস মিলছে না ওই বিদায়ী পুরপ্রধানের।
সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিষ্ণুপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায় পুরসভার এই দুর্নীতি নিয়ে সরব হন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত মে মাসের শেষে তিন সদস্যের একটি বিশেষ দল দু’দিন ধরে পুরসভার নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে। তদন্তে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর অনিয়ম সামনে এসেছে।১)নিয়ম বহির্ভূতভাবে,পুরবোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে অস্থায়ী পদে বহাল রাখা হয়েছিল।২)পুরসভার দৈনিক ও বাৎসরিক টোল আদায়ের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের আর্থিক বেনিয়ম মিলেছে।৩)বহুতল ভবনের ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে চলেছে ব্যাপক আর্থিক লেনদেন।৪)ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাবশালীদের সম্পত্তি কর বেআইনিভাবে সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে।
এই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই মহকুমাশাসক থানায় অভিযোগ জানান। পুলিশ সক্রিয় হতেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত প্রাক্তন পুরপ্রধান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বতন সরকারকে তীব্র নিশানা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস জানান, পুরসভার এই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সরব হলেও পূর্বতন সরকার কর্ণপাত করেনি। রাজ্যে পালাবদলের পর নিরপেক্ষ তদন্ত হতেই সমস্ত অকাট্য প্রমাণ মিলেছে এবং আইনি ফাঁস শক্ত হওয়াতেই প্রাক্তন পুরপ্রধান পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে এভাবে নিজেকে আড়াল করা যাবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।