কলকাতা পুরসভার (KMC) ওয়ার্ড বিন্যাসে এক বিশাল পরিবর্তন আসতে চলেছে। পুরসভা এলাকায় ভোটার ও বুথ সংখ্যার অসমতা দূর করতে এবং নাগরিক পরিষেবা আরও সুষমভাবে পৌঁছে দিতে এবার ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।বর্তমানে কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের মধ্যে ভোটার সংখ্যার চরম তারতম্য রয়েছে।যেমন--৫৮ নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। অন্যদিকে ৪৯ নং ওয়ার্ডেভোটার সংখ্যা মাত্র ৯ হাজার। আবার, যাদবপুর এলাকার অন্তর্ভুক্ত ৯৩, ১০৮ এবং ১০৯ নং ওয়ার্ডগুলির ভোটার বিন্যাস অত্যন্ত জটিল।
ভোটার সংখ্যার এই বিপুল ব্যবধান সত্ত্বেও প্রতিটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দের পরিমাণ একই থাকে। ফলে কাউন্সিলরদের মনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমছিল। এই সমস্যা মেটাতেই ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার ভোটার এবং ২৫ থেকে ৩০টি বুথ রাখার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজকে দ্রুত ও নিখুঁত করতে রাজ্য সরকারের তরফে দুটি কমিটি গড়া হয়েছে।১)সেন্ট্রাল ডিলিমিটেশন কমিটি--১০ সদস্যের এই কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন স্পেশাল কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্য।
২)বরোভিত্তিক কমিটি-- প্রতি বরো স্তরে গঠিত এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন করে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকছেন রেভিনিউ অফিসাররা।
রেভিনিউ অফিসাররা সংশ্লিষ্ট বরোগুলির রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ খতিয়ে দেখে জনসংখ্যা ও ভোটার বিন্যাস সম্পর্কে একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করবেন। মূলত কর প্রদানের ডেটা এবং বর্তমান জনসংখ্যার অনুপাতের ওপর ভিত্তি করেই নতুন ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
এই ঐতিহাসিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কলকাতার প্রতিটি কোণায় যেমন সমহারে নাগরিক উন্নয়ন সম্ভব হবে, তেমনই পুরপরিষেবা প্রদানে কাউন্সিলরদের কাজও অনেক সহজ ও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।