কলকাতা,নিউজ ডেস্ক: আজ ছিল বিজেপির বন্দেমাতরম কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুরের ছাত্রদের নেশা করা এবং দেশদ্রোহীতা নিয়ে কড়া বার্তা দেন। শুক্রবার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে '১০ হাজার কণ্ঠে বন্দেমাতরম্' কর্মসূচির মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিকে নিশানা করেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, 'কীসের আজাদি? মদ খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার আজাদি? হেরোইন নেওয়ার আজাদি?'
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক টানাপড়েন চরমে। মাত্র একসপ্তাহ আগেই, চরম বিশৃঙ্খলা, এবং বিক্ষোভ দেখেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। জিবি কমিটির মিটিং নিয়ে মারপিট এবং তাণ্ডব ঘটে এসএফআই এবং এবিভিপি-র ছাত্রদের মধ্যে। পুলিশ গ্রেফতার করে এগারো জন কে। রাস্তায় নামেন এসএফআই-র সর্বভারতীয় যুগ্মসম্পাদক দীপ্সিতা ধর। যাদবপুরে তাণ্ডব চলা কালে ভাঙা হয়েছিল নন্দলাল বসুর 'শতদল ফলক।'
সেই ঘটনা মাথায় রেখেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে বন্দেমাতরম্ গাওয়ার কর্মসূচি। সেই মঞ্চ থেকেই এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্য দিয়ে বিঁধলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি, বামপন্থী সংগঠনকে। তাঁর দাবি করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবাদী এবং ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
তিনি এক্ষেত্রে বলেন, 'কমিউনিস্টদের ৩৪ বছরের রাজত্বে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটা মানসিকতা তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন সংস্কৃতি এবং বাঙালির পরম্পরাকে গুরুত্ব দেওয়া হত না। তৃণমূলের আমলেও সেই মানসিকতা বদলায়নি। তাঁর পরবর্তী সময়ে যারা পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে, তাদের কাছেও রাষ্ট্রবাদকে প্রতিষ্ঠা করা অগ্রাধিকারের মধ্যে ছিল না।'
তিনি বামপন্থী ছাত্রদের চে গুয়েভারার আদর্শ অনুসরণ নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, 'চে গুয়েভারা না কে একটা আছে'।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বারবার। এই ঘটনা নিয়ে এদিন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হস্টেল এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গাঁজা, হেরোইন বা অন্য কোনও মাদক ব্যবহার হচ্ছে কিনা, বিশেষ নজর দিয়ে দেখার কথা বলেন। প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করার কথাও জানান। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'গাঁজা, হেরোইন কোথায়, কে নিয়ে যাচ্ছে, কোথায় বসে পাতা পুড়িয়ে টানছে; আমি বের করব।'
বাম ছাত্রদের নিশানা করে তিনি বলেন, 'ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্লোগান নেই, কর্মসংস্থান নিয়ে স্লোগান নেই, দেশের উন্নতি নিয়ে স্লোগান নেই। কিন্তু স্লোগান হচ্ছে আজাদি।'