২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ফলে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে 'এসএসসি ২০১৬'র গোটা প্যানেলই বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের 'বেঁধে দেওয়া সময়সীমা'র মধ্যে কোনও ভাবেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অসম্ভব। একারনেই ফের শীর্ষ আদালতের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করতে চাইছে রাজ্যের 'স্কুল সার্ভিস কমিশন'। প্রাথমিক পর্যায়, ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময় ধার্য করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সে সময় উত্তীর্ণ হওয়ার সামান্য কিছু দিন আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল 'এসএসসি'। সেই আবেদনে সাড়া দেন বিচারপতি। সে বার ৩১শে অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সূত্র বলছে, এবার কিন্তু,অনেকটা-ই সময় নিতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি গেছিল প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর। শীর্ষ আদালতে প্রাথমিক ভাবে ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫ এবং পরে ৩১শে অগস্ট ২০২৬ অবধি 'যোগ্য শিক্ষক'দের সবেতন কাজ করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে, ধার্য করা সময়সীমার মধ্যে রাজ্যকে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সমস্যা অন্য জায়গায়। সেটা কী ? তা হল 'ওবিসি সংরক্ষণ'কে কেন্দ্র করে টালবাহানা চলছে শিক্ষক নিয়োগে। তাই এক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতের কাছে অনেকটা বাড়তি সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে,এমনটাই জানা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আগেও স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়ালা বলেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের কাছে বাড়তি কিছুটা সময় চাওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ আজ জানা গেল, 'সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে'।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল এই ব্যাপারে বক্তব্য রেখেছেন 'সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদন মেনে নিলে রাজ্য সরকার অনেকটা সময় পাবে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে আরও সতর্ক ভাবে। কিন্তু যাঁরা এ বার নতুন পরীক্ষার্থী, তাঁদের বয়স আরও বেড়ে যাবে।'
'যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ'র তরফে মেহবুব মণ্ডল এ দিন বলেন, ‘যে ভাবে ওবিসি সংরক্ষণের জটে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছে,তাতে ২০১৬ সালের অনেক যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকাও বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা। আমাদের স্পষ্ট জিজ্ঞাসা ২০১৬ সালের যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য সরকার কী করছে?’