কলকাতা, পিউ নন্দী: চল্লিশ পেরোলেই হরমোনের ওঠানামা,শরীর ও মন চাঙ্গা রাখতে তিন যোগাসনে ভরসা রাখতে পারেন,এতেই মিলবে সমাধান।
বয়স চল্লিশের কোঠা পেরোতেই অধিকাংশ মহিলার শরীরে নিঃশব্দে হানা দেয় নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতা। চিকিৎসকদের মতে, মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তির সময় ঘনিয়ে এলে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করে। একদিকে পরিবার ও কাজের ব্যস্ততা সামলানো, অন্যদিকে আকস্মিক মেজাজ পরিবর্তন কিংবা শারীরিক দুর্বলতা,সব মিলিয়ে জীবনের এই মধ্যপর্বে নারীদের বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হয়।
তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই সন্ধিক্ষণে প্রতিদিনের রুটিনে নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন রাখলেই দেহ ও মনের ভারসাম্য ধরে রাখা সম্ভব। প্রথমেই অভ্যাস করা যেতে পারে মালাসন। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুই পায়ের মধ্যে সামান্য ফাঁক রেখে হাত দুটি বুকের কাছে নমস্কারের ভঙ্গিতে আনতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে উবু হয়ে বসে দুই কনুই দিয়ে দুই হাঁটুতে আলতো চাপ রেখে সোজা হয়ে বসতে হবে। টানা ৩ থেকে ৪ মিনিট এই ভঙ্গিতে থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে পেলভিক অঞ্চলের পেশি সক্রিয় থাকে।
বুকের পেশি টানটান রাখতে এবং শরীরে লসিকা গ্রন্থিগুলির সঠিক রক্ত সঞ্চালনে অত্যন্ত কার্যকর মৎস্যেন্দ্রাসন। মেঝেতে পা ছড়িয়ে বসে বাঁ পা ভাঁজ করে ডান উরুর উপর রাখতে হবে। শরীরের উপরিভাগ বাঁ দিকে ঘুরিয়ে বাঁ হাত দিয়ে ডান হাঁটু স্পর্শ করে ডান হাতটি পেছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে পায়ের পাতা ধরার ভঙ্গিতে আসতে হবে। প্রতি পাশে প্রায় ২০ সেকেন্ড এই ভঙ্গি ধরে রাখলে মেরুদণ্ড ও সংলগ্ন পেশির নমনীয়তা বাড়ে।
তলপেটের অস্বস্তি দূর করতে ও স্নায়ু শিথিল রাখতে মহিলারা অভ্যাস করতে পারেন বদ্ধ কোণাসন। কোমর ও পিঠ টানটান করে বসে দুই হাঁটু ভাঁজ করে দুই পায়ের পাতা একে অপরের মুখোমুখি জোড়া করতে হবে। এরপর পায়ের পাতা শরীরের যতখানি সম্ভব কাছে টেনে গভীর শ্বাস নিয়ে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে কপাল মেঝেতে ঠেকানোর চেষ্টা করতে হবে। ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড পেটে মৃদু চাপ বজায় রেখে এই আসন অভ্যাস করলে মানসিক অবসাদ অনেকটাই কমে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, বয়সজনিত এই রূপান্তরকে ভয় না পেয়ে নিয়মিত শরীরচর্চাতেই মিশতে পারে সমাধান।