কলকাতা, কেয়া মণ্ডল:পার্ক স্ট্রিটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। ইতিমধ্যে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, হোটেলে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, সবকিছু খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে দমকল বিভাগ। মির্জা গালিব স্ট্রিটের মোট ৯টি গেস্ট হাউস ও চারটি রেস্তরাঁ কাম পানশালাকে শোকজ নোটিস পাঠানো হল। আগামী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের শোকজের জবাব দিতে হবে। সেই জবাব সন্তোষজনক না হলে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে,অগ্নিকাণ্ডে মৃত নয়জনের পরিচয় বুধবারই জানা গিয়েছিল। বাকি দু’জনকে শনাক্ত করা গেল বৃহস্পতিবার। তাঁরাও বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। শনাক্ত করা হয়েছে এসএম আলিমুজ্জামান (৪৫) এবং রেবতী সরকারের দেহ। তাঁরা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তাঁদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ হাই কমিশনের নথির সঙ্গে হোটেলের নথি, পাসপোর্ট ইত্যাদি মিলিয়ে দেখে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার ভোররাতে আগুন লাগে নিউ মার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। হোটেলের ভিতরে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁরা কলকাতায় এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বলে খবর।
ইতিমধ্যে, হোটেলের লিজ-হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী দল। বুধবার গভীর রাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তের স্বার্থে হোটেলের আরও দু’জন কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে একজন হোটেলের ম্যানেজার এবং অন্যজন কর্মী। অগ্নিকাণ্ডের আগে হোটেলের পরিস্থিতি কেমন ছিল, আগুন লাগার পর কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল এবং উদ্ধারকাজে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তাঁদের কাছ থেকে সেই সংক্রান্ত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও হোটেলকর্মীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিভিন্ন নথিও। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। আবু জাফরের গ্রেফতারির পর তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং কোনও গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।