কলকাতা, অঙ্কন দাস: রাজ্য জুড়ে পরপর তিনদিন অগ্নিকাণ্ড! গত পরশু সোমবার বীরভূমের তারাপীঠ, গতকাল মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার দমদম( বিমানবন্দর)। এর সাথে আজ যুক্ত হল কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এই অগ্নিকাণ্ডে মৃত ৯জন। ঘটনাটি ঘটেছে আজ (১৯শে অগাস্ট,২০২৬) ভোররাতে তালতলার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আচমকাই আগুন লাগে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে দমকল। অবশেষে ওই চারটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।সূত্র জানাচ্ছে, মৃতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ,দু’জন মহিলা এবং একজন শিশু৷ আজই দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়না তদন্ত হবে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে৷
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে হোটেলের ভিতরে বেশ কিছুজন আটকে পড়েছিলেন। এমনটাই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। এঁদের মধ্যে ৯ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। অগ্নিকাণ্ডের জেরে বারবার প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নিশ্চিত ভাবে দেয়নি প্রশাসন। এছাড়াও, আগুন কীভাবে লাগল, তা এখনও ধোঁয়াশা।শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণে এই অগ্নিকাণ্ড, তাও খতিয়ে দেখছে দমকল ও পুলিশ। হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকঠাক ছিল কি না! সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে হোটেল চত্বরে আতঙ্ক ছড়ায়। একইসাথে, আগুন লাগার সময় হোটেলে কতজন ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে সকলকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে কি না? তাও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
সম্প্রতি(১৭ই অগাস্ট) তারাপীঠে মা তারার মন্দির থেকে কিছু দূরে অবস্থিত থানা সংলগ্ন একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটে৷ প্রত্যেকে পুজো দিয়ে রাত্রি বাস করার জন্য তারাপীঠের এই বেসরকারি হোটেলে ছিলেন। এছাড়াও, মঙ্গলবার (১৮ই অগাস্ট) ভোররাতে আচমকাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। জানা গিয়েছিল, ওইদিন কলকাতা বিমানবন্দরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) বিল্ডিংয়ের তিনতলায় হঠাৎ করেই আগুন লেগে যায়। তবে দমকল কর্মীদের চরম তৎপরতা এবং উপস্থিত বুদ্ধির জোরে খুব দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।