নিউজ ডেস্ক: যে উৎসবের দিনগুলিতে আমরা সময় কাটাই পরিবার-পরিজন নিয়ে হাসি আনন্দ মজা করে সেই উৎসবের ভিড়ে কড়া নজরদারি,রাতভর টহলদারি আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা খাকি উর্দিধারীদের মুখে চট করে হাসি দেখার সুযোগ মেলে না। কারণ সেই দিনগুলিতেও তাদের থাকতে হয় পরিবার থেকে অনেক দূরে। পালন করতে হয় নিজের দায়িত্ব। কিন্তু এবার তাদেরই দেখা গেল এক ভিন্ন ছন্দে।সুরের তাল আর উৎসবের মেজাজ যে সব ধরনের গাম্ভীর্যের দেয়াল ভেঙে দিতে পারে, তারই এক অন্যরকম মুহূর্তের সাক্ষী রইল হায়দরাবাদ।
গণেশোৎসবের সমাপনী দিনে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় সাধারণ পুণ্যার্থীদের সঙ্গেই আনন্দ উৎসবে মেতে উঠতে দেখা গেল তেলঙ্গানা পুলিশের কর্তাদের। সামাজিক মাধ্যমে সেই আনন্দঘন মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই তা তুমুল প্রশংসা কুড়োচ্ছে।
প্রতি বছরই হায়দরাবাদের রাজপথে গণেশ বিসর্জনের আয়োজন এক বিশাল কর্মযজ্ঞের রূপ নেয়। শহরের মূল আকর্ষণ থাকে বিশালাকার প্রতিমা এবং তাকে ঘিরে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। নিরাপত্তার স্বার্থে দিনরাত এক করে কাজ করতে হয় পুলিশ বাহিনীকে। উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে গিয়ে কার্যত পরিবার ও বিনোদন থেকে দূরেই কাটাতে হয় তাঁদের। তবে সম্প্রতি সামনে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র।
https://x.com/MeghUpdates/status/2103552676743336008
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, পেছনে ক্রেনে বিসর্জনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বিশাল গণেশ প্রতিমা। চারপাশে তিলধারণের জায়গা নেই, গমগম করছে বাদ্যযন্ত্র আর উৎসবের গান। জনতার সেই উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে পুলিশ আধিকারিকরা। পরনে খাকি উর্দি ও মাথায় টুপি থাকলেও তাদের শারীরী ভাষায় তখন কোনও কড়াকড়ি নেই, বরং গানের ছন্দে সকলের সঙ্গে মেতে উঠেছেন তারাও। জনতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে, পা মিলিয়ে হাসিমুখে নাচতে দেখা যায় তাদের। পাশেই উপস্থিত অন্যান্য পুলিশকর্মী ও সাধারণ ভক্তরা করতালি দিয়ে সেই আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলেন।
সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, টানা ব্যস্ততা ও মানসিক চাপের মধ্যেও এই মানবিক দিকটি দেখে মন ভালো হয়ে যায়। পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের যে কড়া বা ভীতিকর ভাবমূর্তি থাকে, তা নিমেষেই উধাও হয়ে গিয়েছে এমন আন্তরিক মেলামেশায়। অনেকেরই মত, অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তাঁদেরও এমন প্রাণখোলা আনন্দের পুরোপুরি অধিকার রয়েছে।
উৎসবের আসল তাৎপর্য যে সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে নেওয়া, হায়দরাবাদের এই ভিডিও যেন আরও একবার সেই বার্তাই দিল। আবার অনেকেই বলেছেন সকলের অধিকার আছে উৎসবের দিনগুলিতে একটু আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা পারেন না। তাই দায়িত্বের মধ্যে থেকেও এই ভাবেই যদি সকলের সঙ্গে মিলেমিশে তারা একটু আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন তাহলে আর মন্দ কি।
