পূর্ব বর্ধমান, কেয়া মন্ডল:রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর চলছে ডিম-থেরাপি। প্রকাশ্যে তাঁদের দেখলেই কোথাও ডিম ছোড়া, কোথাও বিক্ষোভ ঘটেই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে এবার নিজের নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কথা বলে নতুন বিতর্কে জড়ালেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ।
সোমবার নিজের সংসদীয় এলাকায় সাংবাদিক বৈঠক করে কীর্তি বলেন, 'স্কুলে ডিম দেওয়া বন্ধ করে দিল, আর এখন লোককে ডিম মারছে। আমরাও নিজের সুরক্ষার জন্য পিস্তলের লাইসেন্স নিচ্ছি। আমাদেরও নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার আছে।'দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলার প্রসঙ্গ তুলে সাংসদ বলেন,'আমরা ভারতের জন্য ক্রিকেট খেলেছি। ভারত মাতার মর্যাদার জন্য ক্রিকেট খেলেছি।'
পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা করে কীর্তি আরও বলেন, ঋতব্রত কী কী করেছেন? কার চাপের মুখে কী করেছেন, সেই সমস্ত তথ্য তাঁদের জানা রয়েছে। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,'এটা রাক্ষসরাজ। রাক্ষস! কালনেমিরা এখানে বসে রয়েছে।'
জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে বর্ধমান-দুর্গাপুরে এসেছেন কীর্তি। তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক রয়েছে। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি রয়েছে। দুর্গাপুজোর পর থেকে দলের সমস্ত কর্মসূচি শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলার পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন তৃণমূল সাংসদ। বাংলার সঙ্গে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের তুলনা টেনে তাঁর দাবি, রাজ্যের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তাঁর কথায়, আফ্রিকার সমুদ্রে জলদস্যু ঘোরে, আর বাংলার শহর, ঘর ও গলিতে 'জলদস্যু, ডাকাতরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।' কীর্তির এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সম্প্রতি, হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়ি যাওয়ার সময় বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা ও জুতো। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়,‘আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি, ধিক্কার জানাচ্ছি। পুলিশ লকআপে মৃত্যুর পরেও ওরা বাড়িতে এসে ভয় দেখাচ্ছে। বাইরে থেকে লোক এনে এই ঝামেলা করা হয়েছে। বাংলা আজ লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে।’