কলকাতা, পিউ নন্দী:তিনি অবাঙালি, হিন্দিভাষী হলেও বাংলা ছবিতে ‘মন বিবাগী’ , ‘প্রেম কি বুঝিনি’, ‘ওরে মনওয়া রে’, ‘তুই আমার হিরো’র মত একাধিক জনপ্রিয় গান গেয়েছেন আকৃতির। কলকাতার সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ,কখনও নায়িকা কোয়েল মল্লিক, কখনও আবার শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের কণ্ঠ হয়ে উঠেছেন তিনি।গানের রিয়্যালিটি শো-এর মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন বাঙালি শ্রোতাদের আরও কাছের।
আকৃতি বলেন মানুষের মনে পুরোপুরি জায়গা করে নিতে সামগ্রিকভাবে সংগীত শিল্পী গড়ে ওঠা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে শুধু প্লেব্যাক গাইলে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবেই পরিচয় থাকবে কিন্তু যদি নিজের গান তৈরি করেন তাহলে সম্পূর্ণ সংগীতশিল্পী হয়ে উঠবেন এবং মানুষ আপনাকে মনে রাখবে। কিন্তু গানের প্রস্তাব এলে তিনি কিভাবে বেছে নেন গান ?
গায়িকা জানান, তিনি খুব ভেবে চিন্তে গান নির্বাচন করেন। AI দ্বারা গান তিনি অতি সহজেই বুঝতে পারেন। তার কারণ হিসেবে তিনি জানান, গানের কথা ও সুরের গুরুত্ব যাতে আমার কাছেও পরিষ্কার থাকে, এই দিকটি নিয়ে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকি।তাই আগে গানের ট্রাক শোনেন তারপর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন,আসলে মানুষের তৈরি গানের মধ্যে আবেগ থাকে, যা মন ছোঁয় কিন্তু যন্ত্র দিয়ে তৈরি সঙ্গীত কোনও ভাবেই মন স্পর্শ করতে পারে না। তাই খুব সহজেই AI দ্বারা তৈরি গান বোঝা যায়।
বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ভাইরাল হচ্ছেন এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকেই রিল্স-এ গান করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে। আমাদের মনে রাখতে হবে সব সময় সবাই ৬-৭ মিনিটের গান শুনতে এখন চায় না। তাই দীর্ঘ গানের পরিবর্তে মন ছুয়ে যায় এই ধরনের গান এখন মানুষ বেশি চায়। তাই এমন গান বানাতে হবে যাতে তা দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়। তাতে তার রিলস-এর জন্যই হোক বা সিনেমার জন্য।
কলকাতার সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে সঙ্গীতশিল্পী আকৃতি কক্কর জানান, বাংলা প্লেব্যাকে তাঁর শুরুটা হয়েছিল যেন স্বয়ং দেবী দুর্গার আশীর্বাদেই। মুম্বইয়ের এক দুর্গাপূজায় তাঁর গান শুনে সঙ্গীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী চন্দ্রাণী গঙ্গোপাধ্যায় আকৃতিকে বাংলায় সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর ‘পাগলু’ ছবির মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় তাঁর সফল যাত্রা শুরু হয়।
তবে বাংলা গানের সঙ্গে আকৃতির পরিচয় আরও আগে। গুরু ব্যোমকেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি গজ়ল, ভজন, খেয়ালের পাশাপাশি রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলগীতিও শেখেন। ভাষা না বুঝলেও গুরুর অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ ও ‘বড় আশা করে এসেছি গো’ দিয়ে তাঁর রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাঠ শুরু হয়েছিল। আজও সুযোগ পেলে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে ভালোবাসেন।