নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: বুধবার সকাল থেকে বন্যায় বিধ্বস্ত হয় নেপাল। বিকেলের মধ্যেই 'বন্ধু দেশ' ভারত নেপালকে ত্রাণসামগ্রী পাঠায়।বৃহস্পতিবার ভারত বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালে ত্রাণসামগ্রীর দ্বিতীয় চালান পাঠিয়েছে। একটি সামরিক পরিবহন বিমান ৩৭.৫ টন মানবিক সহায়তা সামগ্রী, ওষুধ এবং খাবারের প্যাকেট সেখানে নিয়ে যায়।
এই ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান 'বুধবার নেপালে ১০ টন মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগকালীন ত্রাণ (HADR) সামগ্রী পাঠানোর পর এই নতুন চালানটি পাঠানো হলো।' সোশ্যাল মিডিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর লেখেন, 'নেপালের জন্য ৩৭.৫ টন মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগকালীন ত্রাণ সামগ্রী,ওষুধ এবং খাবারের প্যাকেট নিয়ে দ্বিতীয় বিমানটি এইমাত্র রওনা হয়েছে।' তাঁর বক্তব্যে সংযোজন 'ভারত নেপালের কর্তৃপক্ষের সাথে ঘনিষ্ঠ ও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে। আমরা চলমান ত্রাণ কার্যক্রমকে জোরালোভাবে সহায়তা অব্যাহত রাখব।'
তিব্বত লাগোয়া নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্যাপক হারে ক্ষয়ক্ষতির ঘটেছে। ভারত সহায়তার জন্য প্রথম চালানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র,কম্বল,স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী (হাইজিন কিট),সোলার ল্যাম্প এবং ওষুধ পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সাথে কথা বলে ভারতের সহায়তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। এরপরই এই ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়।সামনের দিনগুলোতে ভারত থেকে আরও ত্রাণসামগ্রী নেপালে পাঠানো হবে বলে জানা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত,তাপালের পাহাড়ি পথে ২০টি সেতুর সঙ্গে ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ভেসে গিয়েছে। এর বেশ কয়েকটিই কর্মক্ষম ছিল। অর্থাৎ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধে জল জমানো ছিল। বাঁধ ভাঙায় সেই জমানো জল ‘জলবোমা’র তেজ আরও বাড়িয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটের ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পই তুষারধসের নেপথ্য কারণ। সূত্র জানাচ্ছে, ভূমিকম্প আসায় প্রথমে ভাবা হয়েছিল, মাটি কাঁপতেই ভেঙে পড়ে হিমবাহের টুকরো! কিন্তু পরে আমেরিকার একটি সার্ভে টিম জানায়, এটি সাধারণ ভূমিকম্প নয়। এটির নেপথ্য কারণ তুষারধস।