নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক পর্যটনের দরবারে নিজেদের জায়গা আরও কিছুটা পোক্ত করল ভারত। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং বাজেট-বান্ধব ভ্রমণব্যবস্থার জোরে বিশ্বমঞ্চে উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটল দেশের। সাম্প্রতিক ‘ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স’-এ এক ধাক্কায় ন’ধাপ এগিয়ে ভারত এখন ৩১তম স্থানে। বড় অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে ভারতের এই অগ্রগতি অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
জুরিখ ইনশিওরেন্স গ্রুপের সহযোগিতায় তৈরি এই তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে জাপান। তালিকার পরবর্তী ধাপে রয়েছে আমেরিকা, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের মতো উন্নত অর্থনীতিগুলি।
রিপোর্টে স্পষ্ট, বিশ্বমানের তালিকায় উন্নত দেশগুলির আধিপত্য থাকলেও এশিয়ার উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারত, চিন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলি পর্যটন পরিকাঠামোয় দ্রুত বদল আনছে। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দিক থেকে ভারত, চিন ও মেক্সিকো নিজেদের প্রথম দশের মধ্যে ধরে রেখেছে। ভারতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তুলনামূলক কম খরচে নানা প্রান্ত ঘুরে দেখার সুযোগ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যবসায়িক ভ্রমণের আধুনিক পরিকাঠামো ও পর্যটক পরিষেবার মানোন্নয়ন।
তবে এই সাফল্যের উল্টো পিঠে বেশ কিছু অস্বস্তিকর বাস্তবও সামনে এসেছে। রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও পর্যটন ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মীর অভাব ভারতের একটি বড় দুর্বলতা। এছাড়া পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় সামলানো, পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব এবং বেশ কিছু জায়গায় পরিকাঠামোর গুণমান রক্ষা করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
শুধু ভারতই নয়, অতিমারী-পরবর্তী সময়ে বিশ্ব পর্যটন শিল্প এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সামগ্রিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পর্যটনের চাহিদা ফিরে এলেও আকাশছোঁয়া বিমানভাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধিতে বাধা তৈরি করছে। পর্যটনের ভিড়কে স্থায়ী আর্থিক সুফলে রূপান্তর করাই এখন বিশ্ব অর্থনীতির বড় পরীক্ষা।
তবু সার্বিক চিত্রে আশার আলো দেখছে ডব্লিউইএফ। সমীক্ষায় থাকা ১১০টি দেশের মধ্যে ১০১টি দেশই তাদের স্কোরের উন্নতি ঘটিয়েছে, যা ২০১৯ সালের পর দ্রুততম অগ্রগতি।