ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর বাংলায় বিজেপির জয়জয়কার। কিন্তু সেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও রাজ্য রাজনীতিতে এক অদ্ভুত সমীকরণ ধরে রেখেছে বাঙালির অতি পরিচিত ‘ঝালমুড়ি’। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রবেশপথ মেচেদায় তমলুক সাংগঠনিক জেলার এক বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে সেই হাইপ্রোফাইল সাংগঠনিক সভার চেয়েও এদিন কর্মীদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল ঝালমুড়ির স্টল।
স্মরণ করা যেতে পারে, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ঝাড়গ্রামের এক জনসভায় যোগ দিতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আচমকাই স্থানীয় একটি দোকানে ঢুকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝালমুড়ি-বিলাস রাতারাতি রাজনৈতিক মহলে সাড়া ফেলে দেয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। এমনকি মোদির বিদেশ সফরের সময়েও বারবার চর্চায় উঠে এসেছে এই সাধারণ খাবারটি। পরবর্তীতে বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক বিজয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী নিজেই পরম সমাদরে প্রধানমন্ত্রীকে ঝালমুড়ি পরিবেশন করেছিলেন। সেই থেকে গেরুয়া শিবিরের যে কোনো দলীয় কর্মসূচিতে ঝালমুড়ি পরিবেশন এক অলিখিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।
এদিন মেচেদার দলীয় বৈঠকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে আগত কর্মীদের জন্য বিশেষ ঝালমুড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সভায় অন্যান্য খাবারের স্টল থাকলেও, ভিড় উপচে পড়েছিল ঝালমুড়ির কাউন্টারেই। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের সদস্য—সবাইকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্য ধরে ঝালমুড়ি সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দলের সাংগঠনিক স্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের হাতে কর্মীদের প্লেটে মুড়ি তুলে দেন।
উপস্থিত দলীয় কর্মীদের মতে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন বাঙালির এই ঐতিহ্যবাহী খাবারকে এতটা সম্মান ও গুরুত্ব দিয়েছেন, তখন দলীয় কর্মী হিসেবে সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা তাদের কর্তব্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা দখলের পর বিজেপির এই ‘ঝালমুড়ি কূটনীতি’ নিছকই জলখাবার নয়, বরং তা কর্মীদের আবেগকে একসূত্রে বেঁধে রাখার এক অভিনব মাধ্যম হয়ে উঠেছে।